.কল্পলোকের কল্পবাজ একজন ভাল লেখককে সহজেই ভাল মানুষ ভেবে নেয়াটা বোকামী। যেমন একজন ভাল ডাক্তার ভাল মানুষ নাও হতে পারে। বাংলাদেশে যত জন ডাক্তার আছে এরা সবাই যদি ভাল মানুষ হত, যদি প্রত্যেকটা ডাক্তার দিনে তিনটা করে রোগী বিনা পয়সায় দেখত তাহলে আর এদেশে কেউ বিনা চিকিৎসায় মারা যেতনা।
Thursday, March 14, 2019
নীল ডায়েরি থেকে > "লিস্ট" নংঃ ৪১ প্রতিশোধ (০১) #সাইকো এখানে বসতে পারি??? (মেয়ে) - জ্বি,বসেন। (ছেলে) - ধন্যবাদ ... একটু ভয় ভয় লাগছে শান্তর। এই প্রথম শহরের কোন মেয়ের সাথে কথা বলছে। তার জানা মতে শহরের মেয়েরা অহংকারী হয় আর সহজে ছেলেদের সাথে কথা বলেনা। আচরনেও হয় রাগী... এজন্য সে শহরের মেয়েদের সাথে কথা বলতে একটু ভয় পায়।কারন সে গ্রামের ছেলে। শহরে এসেছে পড়াশোনা করতে। আজ নতুন ভর্তি হয়েছে ভার্সিটিতে। - আমি রিতু । মিরপুরে থাকি। আপনি? - জ্বি আমি শান্ত । গ্রাম থেকে শহরে এসছি।পড়াশোনার জন্য। - বেশ ভাল। পরিচিত হয়ে ভাল লাগলো।(হেসে) - জ্বি ধন্যবাদ। আমিও খুশি হলাম। রিতুকে দেখে তার শহরের মেয়েদের প্রতি চিন্তাধারা একটু ঘুরে গেল। রিতু ঐরকম নয়। হেসেখেলে কথা বলে। আচরনও বেশ মার্জিত । একটা মেয়ে এত ভাল হয় কি করে। একটু খটকা লাগছে শান্তর কাছে ।. ক্লাস শেষে শান্ত সরাসরি বাসায় আসলো। বাসা বলতে সে মেসে থাকে তার দুই বন্ধু রুমমেটের সাথে। গ্রাম ছেড়ে শহরে পড়াশোনার জন্য তাকে মেসে ভাড়া করে থাকতে হয়। শান্তর মা নেই। যখন সে ক্লাসসিক্সে পড়ে তখন তার মা ক্যান্সারে মারা যায়। এরপর বাবাই ছেলের ভরনপোষনের দায়িত্ব নেয়। বাবা ছোটখাটো মুদির দোকানদার। যদিও পরিবারে শান্তর কোন ভাই বোন নেই। সে একাই বাবার সাথে থাকে। তবুও শুধু মুদি দোকান দ্বারা অনেক সময় তার চাহিদা পুরন করা তার বাবার পক্ষে সম্ভব হয়না। এমনও গেছে বাবা না খেয়ে ছেলেকে খাইয়েছে। এমন অভাবে চলতো বাপ ছেলের সংসার। বাবা সামান্য মুদি দোকানদার হওয়া সত্বেও ছেলের প্রতি ছিলেন খুব দায়িত্বশীল। পড়াশোনার একমাত্র ছেলেকে সে শহরে পাঠাবে, ছেলে বড় হয়ে মানুষ হবে এই আশায়। ছেলে হিসেবে শান্ত ছিল নম্র ভদ্র, আচরন ছিল খুব ভাল। পড়াশোনায় ছিল মেধাবী ছাত্র। তাই তার গ্রামের গুরুজন তাকে বেশ স্নেহ করতো আর ভালবাসতো। শান্ত তার বাবার কথা মতোই সবসময় চলতো। বাবা স্বপ্ন পুরনেও সে কর্তব্যপরায়ন। এজন্যই শান্তর বাবা তার একমাত্র ছেলেকে খুব ভালবাসতো। ছেলেও বাবাকে ভীষন ভালবাসতো। আর মা মারা যাবার পর তার বাবা কখনোই ছেলেকে মায়ের অভাব উপলব্ধি করতে দেন নি। তাই বাবাই ছিল তার কাছে সব। . ঐদিকে রিতু তার বড়লোক বাবার একমাত্র মেয়ে। বাবা শহরের বড় ব্যবসায়ী, নিজস্ব গাড়ি, বাড়ি আছে। আর মা কলেজের প্রফেসর। আর আছে ছোট ভাই। ছোট বেলা হতেই বড় আদরে মানুষ হয়েছে রিতু। আর খুব ভাল, ভদ্র মেয়ে। চাল-চলন যেমন ছিল সুন্দর তেমনি দেখতেও... .
By kolpobazz
Wednesday, March 13, 2019
এখানে বসতে পারি??? (মেয়ে) - জ্বি,বসেন। (ছেলে) - ধন্যবাদ ... খুব ভয় ভয় লাগছে জুবায়েরের। এই প্রথম শহরের কোন মেয়ে তার সাথে কথা বলছে। তার জানা মতে শহরের মেয়েরা অহংকারী হয় আর সহজে ছেলেদের সাথে কথা বলেনা। আচরনেও হয় রাগী...এজন্য সে শহরের মেয়েদের সাথে কথা বলতে ভয় পায়। আর তাছাড়া সে গ্রামের ছেলে। শহরে এসেছে পড়াশোনা করতে। আজ নতুন হয়েছে ভর্তি ভার্সিটিতে। - আমি রিতু । মিরপুরে থাকি। আপনি? - জ্বি আমি জুবায়ের। গ্রাম থেকে শহরে এসছি। পড়াশোনার জন্য। - বেশ ভাল। পরিচিত হয়ে ভাল লাগলো। (হেসে) - জ্বি ধন্যবাদ। আমিও খুশি হলাম। . রিতুকে দেখে তার শহরের মেয়েদের প্রতি চিন্তাধারা একটু ঘুরে গেল। রিতু ঐরকম নয়। হেসেখেলে কথা বলে। আচরনও বেশ মার্জিত। স্যার ক্লাসে আসার সময় হয়ে গেছে। ছেলেমেয়ে সবাই প্রস্তুত হয়ে বসলো। কিছুক্ষন বাদেই স্যার ক্লাসে প্রবেশ করল। . ক্লাস শেষে জুবায়ের সরাসরি বাসায় আসলো। বাসা বলতে সে মেসে থাকে তার দুই বন্ধু রুমমেটের সাথে। গ্রাম ছেড়ে শহরে পড়াশোনার জন্য তাকে মেসে ভাড়া করে থাকতে হয়। . জুবায়েরের মা নেই। যখন সে ক্লাস সিক্সে পড়ে তখন তার মা ক্যান্সারে মারা যায়। এরপর বাবাই ছেলের ভরনপোষনের দায়িত্ব নেয়। বাবা ছোটখাটো মুদির দোকানদার। যদিও পরিবারে জুবায়েরের কোন ভাই বোন নেই। সে একাই বাবার সাথে থাকে। তবুও শুধু মুদি দোকান দ্বারা অনেক সময় তার চাহিদা পুরন করা তার বাবার পক্ষে সম্ভব হয়না। এমনও গেছে বাবা না খেয়ে ছেলেকে খাইয়েছে। এমন অভাবে চলতো বাপ ছেলের সংসার। বাবা সামান্য মুদি দোকানদার হওয়া সত্বেও ছেলের প্রতি ছিলেন খুব দায়িত্বশীল। পড়াশোনার একমাত্র ছেলেকে সে শহরে পাঠাবে, ছেলে বড় হয়ে মানুষ হবে এই আশায়। ছেলে হিসেবে জুবায়ের ছিল নম্র ভদ্র, আচরন ছিল খুব ভাল। পড়াশোনায় ছিল মেধাবী ছাত্র। তাই তার গ্রামের গুরুজন তাকে বেশ স্নেহ করতো আর ভালবাসতো।জুবায়ের তার বাবার কথা মতোই সবসময় চলতো। বাবা স্বপ্ন পুরনেও সে কর্তব্যপরায়ন। এজন্যই জুবায়েরের বাবা তার একমাত্র ছেলেকে খুব ভালবাসতো। ছেলেও বাবাকে ভীষন ভালবাসতো। আর মা মারা যাবার পর তার বাবা কখনোই ছেলেকে মায়ের অভাব উপলব্ধি করতে দেন নি। তাই বাবাই ছিল তার কাছে সব। . ঐদিকে রিতু তার বড়লোক বাবার একমাত্র মেয়ে। বাবা শহরের বড় ব্যবসায়ী, নিজস্ব গাড়ি, বাড়ি আছে। আর মা গৃহিনীই। আর আছে ছোট ভাই। ছোট বেলা হতেই বড় আদরে মানুষ হয়েছে রিতু। আর খুব ভাল, ভদ্র মেয়ে। চাল-চলন যেমন ছিল সুন্দর তেমনি দেখতেও... . পরেরদিন ক্লাস শেষে বাড়ি যাবার পথে জুবায়েরের সাথে রিতুর দেখা হয়। দেখামাত্রই জুবায়েরকে ডাক দেয়...... - এইযে শুনুন...(রিতু) - (হঠাৎ থেমে পিছনে তাকিয়ে) আমাকে বলছেন? (জুবায়ের) - হ্যাঁ। গতকাল তো হুট করে চলে গেলেন। আজও যাচ্ছেন। ব্যাপার কি? - না মানে...এমনি আর কি। - তাড়া আছে? - নাহ! কিছু বলবেন? - চলেন এক জায়গায় যাব। - কোথায়? - আহ চলুন না! - আচ্ছা চলুন। এক বট গাছের সামনে রিতু জুবায়ের কে নিয়ে গেল। তারা দুইজন সেখানে বসল। চারদিকে হালকা শীতল হাওয়া এসে বইছে। বেশ নিরিবিলি আর সুন্দর একটা জায়গা। ফ্রি টাইমে রিতু প্রায়ই এখানে আসে। আজ সে জুবায়েরকে নিয়ে বসল। জুবায়েরের একটু নার্ভাস ফিল হচ্ছে কারন সে সহজে মেয়েদের সাথে কথা বলেনা। ভয় পায়। এই প্রথম একটা মেয়ে তার সাথে এমন ভাবে হেসে খেলে কথা বলছে যেন মেয়েটি তার অনেক দিনের চেনা। সত্যিই রিতু মেয়েটা বড় অদ্ভুত মনে মনে ভাবছে জুবায়ের । - নার্ভাস লাগছে? (রিতু) - কই নাতো! (জুবায়ের) - ভয়ের কিছু নাই। আমি ফ্রেন্ডলি সবার সাথে। - না না তেমন কিছুনা। - তারপর আপনার বন্ধু আছে কে কে? - আছে বর্তমানে দুইজন মেসের রুমমেট। - আর কেউনা! (অবাক হয়ে রিতু) - আমার বাবাই বড় বন্ধু। - হুমম... আরেকটা যে নতুন বন্ধু যোগ হতে যাচ্ছে। তাকে কি এক্সেপ্ট করা যাবে? - বলেন কি? কে সে? - আমি... কি বন্ধু হিসেবে কি নেয়া যায় এই হতভাগীকে! (কবি কন্ঠে বলে উঠল সিমি) - কি যে বলেন! আমার মত ছেলের সাথে বন্ধুত্ব! (মাথা চুলকিয়ে সিফাত) - দেখুন এটা ঠিক না! (রাগান্বিত সুরে) - আচ্ছা আচ্ছা। আপনার বন্ধুত্ব গ্রহন করলাম। - তবে এখন হতে আর আপনি নয়। তুই করে বলতে হবে। আমিও বলব। - আচ্ছা ম্যাডাম তাই হবে। (দুষ্টুমির সুরে বলে উঠে জুবায়ের) - হাহাহা... . এভাবে জুবায়ের আর রিতুর বন্ধুত্বের সূচনা। ধীরে ধীরে তাদের বন্ধুত্ব গভীর হতে লাগল। দিন হতে মাস, মাস হতে বছর। দুইজন একসাথে সবসময় চলে, একে অপরের পারস্পরিকতায় তাদের বন্ধুত্ব। আর রিতুর স্বভাবের সাথে জুবায়েরের অনেক মিল আছে। দুইজনই ঠান্ডা স্বভাবের আর সাদামাটা জীবন যাপন পছন্দ করে। তাই তারা একে অপরকে খুব পছন্দ করে। দুষ্টুমি, হাসি-ঠাট্টা, রাগ, ভালবাসা এই মিলিয়ে তাদের বন্ধুত্ব...... . প্রায় এক বছর কেটে গেল জুবায়ের আর রিতুর বন্ধুত্বের... ঠিক এমন সময় একদিন হঠাৎ খুব সকালে রিতু জুবায়েরকে ফোন দেয়...... - কি ব্যাপার রিতু এত সকালে ফোন দিলি যে? - জুবায়ের তুই এখনি ঐ জায়গায়টায় আয় যেখানে আমরা প্রথম বন্ধুত্ব করি। - এত সকালে?? এত সকালে?? কেন? ৮টা বাজে মাত্র। - (উত্তেজিত সুরে) তুই আসবি কিনা বল! - আচ্ছা আসছি ওয়েট। - হুম জলদি আয়... এই বলে ফোন রেখে দেয় রিতু।জুবায়ের চিন্তায় পরে গেল। কি হল মেয়েটার! মনে হচ্ছে বেশ চিন্তায় আছে আর বিরাট বড় সমস্যায় পড়েছে। যাক দেরি না করে বেরিয়ে পড়ল জুবায়ের। . সকাল ৮টা ১৫ বেজে গেল ঐদিকে রিতু অপেক্ষা করতে করতে অস্থির। হঠাৎ দূর থেকে দেখে জুবায়ের দৌড়ে আসছে। আর এসেই হাঁপাতে হাঁপাতে বলল... - কিহ! বল... - জুবায়ের আমায় নিয়ে চল! (রিতু জুবায়েরের হাত ধরে বলল) - কোথায়?? - যেথায় ইচ্ছা। বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছে। কিন্তু আমি তোকে ভালবাসি। - কি বলছিস এসব? - আমি ঠিকই বলছি। তুই প্লিজ আমাকে কোথাও নিয়ে চল। আমাকে বিয়ে কর। - পাগলামি করিস না। (রিতুর হাত ছেড়ে দিয়ে।) - বিশ্বাস কর আমি তোকে ভালবাসি। আই লাভ ইউ জুবায়ের। আমি থাকতে পারব না তোকে ছাড়া। - তুই বাড়ি যা। - না যাবনা। - তবে আমিই যাচ্ছি। আমি তোকে ভালবাসিনা। সো ইম্পসিবল। এই বলে জুবায়ের পিছনে ফিরে সজোরে হাটা দিল। রিতু অনেক জোরে চিৎকার করে ডাকছে তাও শুনলো না। হতাশ মনে রিতু বাড়ি গেল। জুবায়েরের নাম্বারে ফোন দিলে রিসিভ করেনা। এরকম বারবার কল দিয়ে যায় রিতু। হঠাৎ রিতুর নাম্বারে একটা ম্যাসেজ আসে। আর সেটা জুবায়েরের দেয়া। তাতে লেখা..... "পাগলি আমিও তোকে অনেক আগে থেকেই ভালোবাসি। তবে বলতে পারি নাই বন্ধুত্বটা যেন না হারিয়ে যাই।আই লাভ ইউ রিতু....... . তখন রিতু যে কত খুশি হয়ছে তা বলা অসম্ভব। শুরু হলো তাদের বন্ধু থেকে প্রেম। মাস হানিক হওয়ার পর।জুবায়ের রিতুকে বলতেছে তারা কোনো এক নদীর পাড় ঘুরতে যাবে।তো রিতুও রাজি হলো। একদিন বিকেল বেলা দুজনে গেল নদীর পাড় ঘুরতে। অনেক্ষন যাবত দুইজনে বসে গল্প করতেছে।সন্ধা ঘনিয়ে আসতেছে...চারদিক ে নির্জন আবাস..জনবহুল বলতে নেই। হঠাৎ জুবায়ের রিতু কে ধাক্কা মেরে দূরে ঠেলে দেই।রিতু কিছুই বুঝতেছে না।দুইজনেই দাঁড়িয়ে যাই।সাথে সাথে জুবায়ের তার পিছন থেকে একটা দাড়ালো ছুরি বের করে। ছুরি দেখে রিতু বলতেছে... -জুবায়ের ছুরি বের করছ কেন,আর আমাকেই বা ধাক্কা মারলা কেন -তকে খুন করব -কি বলতেছ এসব -হুম,সত্যি বলতেছি তকে খুন করব (জুবায়েরের মাঝে এক ভয়ালি রুপ ধারণ করেছে।মনে হয় সত্যিই রিতুকে খুন করবে) -কিন্তু কেন আমাকে খুন করবে,তুমি বলে আমাকে ভালোবাস,তাহলে -আমি তকে ভালোবাসতে যাব কোন দুঃখে,আমি তো তর সাথে এতদিন যাবত অভিনয় করে আসছি শুধু আজকের দিনটার জন্য।তকে খুন করব বলে আমি সেই দিন থেকে অপেক্ষা করে আসছি।যেই দিন আমার বন্ধু রিফাত মারা গেছিল। (রিফাতের নাম শুনে রিতু চমকে ওঠল। জুবায়ের তাহলে কি রিফাতের বন্ধু। রিতুর আর বুঝতে বাকি রইল না) . জুবায়ের আবার বলতে লাগল... -তুই চমকে ওঠলি কেন।রিফাত তকে অনেক ভালোবাসত।যেই দিন তুই রিফাতকে দূরে ঠেলে দিয়েছিলি,সেই দিন রিফাতে অনেক কাঁদছে।শেষ পর্যন্ত আমার বন্ধুটা আত্মহত্যা করে।তকে তো ও অনেক ভালোবাসত। তাহলে তুই কেন ওর সাথে এমন করলি।কি দুষ ছিল ওর।আর আমার উপরোক্ত যে পরিচয় দিছি সবগুলো বানোয়াট। একমাত্র আমার প্রেমে তকে ঝড়ানোর জন্য। এসব অভিনয় করছি।যেই দিন রিফাতে মারা যাই।সেই দিন আমি অনেক কাঁদছি।আর প্রতিজ্ঞা করছিলাম।তকে আমি নিজ হাতে খুন করব।আর আজকে আমার সেই আশা পূরণ হতে যাচ্ছে।আমি আজও আমার বন্ধু রিফাতের কথা ভেবে রাত্রে চোখের অশ্রু ঝড়াই। তকে ও অনেক ভালোবাসত। কিন্তু তুই ওরে বাঁচতে দিলি না।এরকম আর কয়টা ছেলের সাথে তুই করছত।আমি এতদিন যাবত ভাল ছেলের অভিনয় করে আসছি তকে খুন করব বলে।তকে খুন করে আমি আমার বন্ধুর আত্মার শান্তি দিতে চাই। . এই বলে জুবায়ের কাঁদতে লাগল।আর রিতু হতবম্ব। কি হতে যাচ্ছে তার সাথে। অবশেষে জুবায়ের রিতুকে ছুড়ি দিয়ে তার গলাটা কেটে ফেলে। আর জোরে জোরে হাসতে থাকে,আকাশের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে... -বন্ধু আমি পেরেছি তর আত্মহত্যার প্রতিশোধ নিতে।তর আত্মা শান্তি পাচ্ছে। আর সাথে কান্নারও আওয়াজ আসতেছে। রিতুর লাশটাকে নদীতে ফেলে। জুবায়ের হাটা শুরু করে তার গন্তব্যে।সন্ধায় আধার করে আসল চারদিকে। . এই গল্পে জুবায়েরের যে পরিচয় দেওয়া হয়ছে সবগুলো বানোয়াট।কারণ এটার মাধ্যমেই জুবায়ের রিতুকে খুন করতে পারে। তাই মিথ্যে পরিচয় দিয়ে রিতুর সাথে ভালোবাসার অভিনয়টা করে। জুবায়ের এর অনেক কাছের বন্ধু ছিল রিফাত।বছর হানিক আগে রিফাতের সাথে রিতুর রিলেশন হয়। কি এক কারণে রিফাতকে দূরে ঠেলে দেয় রিতু।সেই সুখে রিফাত আত্মহত্যা করে। আর জুবায়ের তার প্রতিশোধ নেয়। ভালোবাসার নামে সাইকো বেশে। . ভুল-ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন "সবাইকে ধন্যবাদ"
By kolpobazz
নীল ডায়েরি থেকে > "লিস্ট" নংঃ ৪২ অনুশোচনার মৃত্যু #সাইকো (শেষ ) নতুন আইফোন এক্সটা মাত্র কিনলাম । দেখতে হেব্বি , একেবারে নিধির মত হট । ওহ নিধির কথা মনে পরতেই ছুটে গেলাম পশ্চিম পারার ডাস্টবিন্টার কাছে। ময়লার গন্ধে দাঁড়ানো জাচ্ছে না এখানে কিন্ত বেচারি সানন্দে এখনও ঘুমাচ্ছে । হয়ত ঘুমের মদ্ধেও আইফোন এর স্বপ্ন দেখছে। কারন বোঝা জাচ্ছে স্বপ্নটা মজার , চেহারায় তার ছাপ ফুটে উঠছে । হালকা পানি ছিটালাম নিধির মুখে। জেগে উঠল সে, উঠেই অবাক দৃষ্টিতে এদিক অদিক করছে। হয়ত বুঝতে পারছে না জান্নাত নাকি জাহান্নামে আছে সে। আর যখন বুঝতে পারল ওয়াক করে বমি করা শুরু করল। আর বমির সাথে বেড়িয়ে আসতে লাগল রক্ত । রক্ত দেখে ভয়ে কথা বলতে পারছে না মেয়েটা । দেখে মায়া লাগবে যে কারোর ই । তবে আমার লাগছে না। মনের মধ্যে খুব শান্তি লাগছে এক কথায়। একচল্লিশটা খুন করার পর হয়ত এম্নিতে ও কারো মনে মায়া থাকে না। নিধি বিয়াল্লিশ নম্বরে আছে । এইসব কথা যখন ভাবছি দেখলাম নিধি কথা বলতে চাইছে । কিন্ত ফিস ফিস করা ছাড়া আর আওয়াজ বের হচ্ছে না। আমি তার কথা শুনতে তার কানের কাছে মুখ নিলাম। অস্পষ্ট জা শুনতে পেলাম তা হল " জানোয়ার , কি করছিস তুই আমার সাথে।" তোকে আল্লাহ ক্ষমা করবে না বলে দিলাম আমার সাথে খ্রাপ কিছু করলে।আর তুই আমায় এখানে রাখছিস কেন , অই কুত্তা , বজ্জাত । আমি বললাম বেশি কিছুনা বেব্বি । শুধু তোমার কিডনি নিয়েছি । হয়ত তুমি আর বাচবা না তবে তোমার স্বপ্ন আমি পুরন করে দিচ্ছি । এই যে দেখ আইফোন এক্স ।যেহেতু আজ থেকে তুমিও আমার এক্স হবা। তাই এটাই কিনলাম তোমার জন্য । এই নাও তোমার ফোন আর এই যে ক্যমেরা এনে দিলাম সুন্দর করে একটা পিক তুলে আমাকে সেন্ড কর , আমি না হয় তোমাকে ট্যগ করে পোস্ট দিয়ে দিব । নিধি কাদছে।হয়ত ভুল বুঝতে পেরে। হয়ত বা আইফোন পাবার খুশিতে। শুনেছি মেয়েরা ঙ্কি খুশিতেও কাদে। কি জানি ওসব ভাবতে ইচ্ছে করছে না । মেয়েটার এক হাতে আইফোন আর এক হাত দিয়ে কোমর চেপে শুয়ে আছে । উঠতে পারছে না। হয়ত গালি দিচ্ছে এখন ও আমায় । কিন্ত তাতে কি আমার ওতে কিছু আসে যায় না। মেয়েটার ঠোট কাপছে । হয়ত আবার কিছু বলতে চাচ্ছে । আমি আবার কানের কাছে মুখ নিলাম । সে বলছে পানি পানি। পকেট থেকে পানির বোতলটা বের করলাম , নিজ হাতে পানি খাওয়াচ্ছি নিধিকে ।আগে ও তাকে এমন করে অনেক খাইয়েছি । তবে আজকের আর তখনকার মধ্যে অনেক তফাৎ । পানি খেয়েই মেয়েটা আবার ঘুমিয়ে পরল । সন্ধ্যে হয়ে জাচ্ছে । নীল আকাশ ধারন করছে কালো বর্ণ । আর অইদিকে নিধির সাদা শরিরে জমাট বাধছে নীল রক্ত। আমি ডাইরিটা খুললাম , নীল কালি দিয়ে নিধি নামটাকে আন্ডারলাইন করলাম । নিচে লিখলাম অনুশোচনার মৃত্যু । #সাইকো
By kolpobazz
Tuesday, March 12, 2019
নীল ডায়েরি থেকে > "লিস্ট" নংঃ ৪২ অনুশোচনার মৃত্যু #সাইকো ০২ ডাক্তার সাব ইনজেকশন বানাচ্ছেন আমি বসে আছি , কিন্ত খেয়াল করলাম তিনি প্যথেড্রিন রেডি করছেন , ওষুধ বিসয়ে কিছু জানা ছিল বিধায় বুঝতে পারলাম কোন গণ্ডগোল হতে জাচ্ছে । তাই আমি সাত পাচ না ভেবেই ডাক্তার সাব কে বললাম আচ্ছা ডাক্তার সাব রক্ত নিতে কি অজ্ঞান করতে হয় , কি চলছে এখানে । বলেই পকেট থকে চাকুটা বের করে বললাম । চাকু দেখে তিনি ভয় পেয়ে বললেন দেখুন আমার কোন দোষ নেই । অই নিধি ই সব করতে বলছে । ওর নাকি আইফন দরকার কিন্ত আপনি দিচ্ছেন না তাই বল্ল কিডনি নিতে । ডাক্তারের কথা শুনে আমি তব্দা খেয়ে গেলাম। মাথা কাজ করছে না। ইস যদি এখন না বুঝতে পারতাম কি হত তাহলে। মাথার রক্ত গরম হয়ে ফুটছে , আমার সাথে চালাকি , দারাও বেব্বি দেখাচ্ছি মজা । ডক্টরকে বললাম এখন আমি জা বলব আপনি তাই করবেন । উলটা পালটা হলে খবর আছে। বলেই ছুটে গেলাম নিধির কাছে। নিধি আমাকে দেখে ঝটকা খেল ।হয়ত মনে মনে ভাবছে সালা এখন ও ড্যং ড্যং করে হেটে বেরাচ্ছে। কিছুখন বাদে বল্ল তুমি এখন ও রক্ত দাওনি । তুমি কি চাও আমি মরে যাই । আমি বললাম না বেব্বি , তা হবে কেন । আসলে হইছে কি তোমার রক্তের একটু স্যম্পল লাগবে তাই ডক্টর তোমাকে ডাকছে । সে বল্ল দেখ আমি নড়তে পারছি না । আমাকে কোলে তুল না ও । আমিও তাহার কথামত ভদ্র বফের মত তাকে কোলে নিয়ে বেডে শুয়ালাম । ডক্টর কে বললাম আপনি স্যম্পল নিন। ডক্টর কথামত তাহার কাজ কমপ্লিট করল ।
By kolpobazz
একটা ডাবল মাইয়ার পোষ্টে দুইদিন ধরে উরাধুরা কমেন্ট করছি কিন্ত কিরে এখন ও কেউ ওয়ারেন্ট জারি করে না ক্যন । এই ভেবে ঘুম আসছিল না। ভাবতে না ভাবতেই সদ্য একভাই এসে "অই বুইঝা শুইনা কমেন্ট করিস , আর লাভ রিএক্ট কম দিস বুঝলি । নইলে ব্লা ব্লা ব্লা বলে গেল । আমি এখন সেই মেয়ের সব পোষ্টে গিয়ে আই লেবু আর লাভ রিএক্ট দিয়ে আসছি । আলহামদুলিল্লাহ । এখন আমার প্রচুর ঘুম হবে ।🙃🙃🙃 #সাইকো
By kolpobazz
নীল ডায়েরি থেকে > "লিস্ট" নংঃ ৪২ অনুশোচনার মৃত্যু #সাইকো ০১ নিধির কল এল, ধরতেই -- কুত্তা হারামজাদা, লম্পট, জানোয়ার..!! -- কি হয়েছে ব্যব্বি? তুমি বোকছো কেন? -- শুয়োর, তোরে বলছিলাম ******না.. লুইচ্চা, বেজন্মা, এখন আমার কি হবে..!! -- কি বলো? আমি-তো ভিতরে ফালাইনি.. -- ফালাইসোস, নাইলে আমার পেটে বাচ্চা আইলো ক্যমনে? তুই-তো আর স্বপ্নে দিয়া যাস নাই.. ঢোক গিললাম, হতেও পারে স্বপ্নে ওরে কতবার **** তার হিসাব নাই.. আর শেষ বার যদিও বেলুন ইউজ করছি, তবুও হয়তো বেলুন ফুটো ছিলো... মনে মনে প্যান্থার কোম্পানিরে গালি দিলাম ৷ আবার বলা শুরু করলাম .. -- এখন কি করবো ব্যব্বি? নিধি - কি আর করবা? হসপিটালে আসো যলদি.. এ্যবরেশন ছাড়া উপায় কি? আমি আর কিছু ভাবলাম না, উঠে কিছু টাকা পয়সা ধার করে চললাম হসপিটালের দিকে ৷ যেতেই দেখলাম নিধি বসে আছে, খুব টেনশনে আছে মেয়েটি মায়া হলো ৷ আমার জন্য মেয়েটি একটি জীবনকে ধংস করতে যাচ্ছে.. ডাক্তার সাব আসতেই ওকে নিয়ে ঢুকলো অটিতে.. আমি বাহিরে অপেক্ষা করছি, খুব ভয় হচ্ছে আমার.. হঠাৎ ডক্টর এসে বললো নিধির রক্ত লাগবে, না হলে তাকে বাচানো যাবেনা ৷ আমি রক্ত খুজতে যাবো ডাক্টার বললো আপনার ব্লাড গ্রুপ O+ না? আমি বললাম হ্যাঁ ৷ ডাক্তার বললো আপনি পারবেন রক্ত দিতে ৷ কিন্তু আমার ব্লাড গ্রুপ নিধির ব্লাড গ্রুপ এক না৷ ডাক্তার বললো আপনি সবাইকে রক্ত দিতে পারবেন, আপনি সর্বজনিন দাতা.. সাঁত-পাঁচ না ভেবে আমি ঢুকলাম রক্ত দিতে
By kolpobazz
নীল ডায়েরি থেকে > "লিস্ট" নংঃ ৪২ অনুশোচনার মৃত্যু #সাইকো ০১ নিধির কল এল, ধরতেই -- কুত্তা হারামজাদা, লম্পট, জানোয়ার..!! -- কি হয়েছে ব্যব্বি? তুমি বোকছো কেন? -- শুয়োর, তোরে বলছিলাম ******না.. লুইচ্চা, বেজন্মা, এখন আমার কি হবে..!! -- কি বলো? আমি-তো ভিতরে ফালাইনি.. -- ফালাইসোস, নাইলে আমার পেটে বাচ্চা আইলো ক্যমনে? তুই-তো আর স্বপ্নে দিয়া যাস নাই.. ঢোক গিললাম, হতেও পারে স্বপ্নে ওরে কতবার **** তার হিসাব নাই.. আর শেষ বার যদিও বেলুন ইউজ করছি, তবুও হয়তো বেলুন ফুটো ছিলো... মনে মনে প্যান্থার কোম্পানিরে গালি দিলাম ৷ আবার বলা শুরু করলাম .. -- এখন কি করবো ব্যব্বি? নিধি - কি আর করবা? হসপিটালে আসো যলদি.. এ্যবরেশন ছাড়া উপায় কি? আমি আর কিছু ভাবলাম না, উঠে কিছু টাকা পয়সা ধার করে চললাম হসপিটালের দিকে ৷ যেতেই দেখলাম নিধি বসে আছে, খুব টেনশনে আছে মেয়েটি মায়া হলো ৷ আমার জন্য মেয়েটি একটি জীবনকে ধংস করতে যাচ্ছে.. ডাক্তার সাব আসতেই ওকে নিয়ে ঢুকলো অটিতে.. আমি বাহিরে অপেক্ষা করছি, খুব ভয় হচ্ছে আমার.. হঠাৎ ডক্টর এসে বললো নিধির রক্ত লাগবে, না হলে তাকে বাচানো যাবেনা ৷ আমি রক্ত খুজতে যাবো ডাক্টার বললো আপনার ব্লাড গ্রুপ O+ না? আমি বললাম হ্যাঁ ৷ ডাক্তার বললো আপনি পারবেন রক্ত দিতে ৷ কিন্তু আমার ব্লাড গ্রুপ নিধির ব্লাড গ্রুপ এক না৷ ডাক্তার বললো আপনি সবাইকে রক্ত দিতে পারবেন, আপনি সর্বজনিন দাতা.. সাঁত-পাঁচ না ভেবে আমি ঢুকলাম রক্ত দিতে
By kolpobazz
নীল ডায়েরি থেকে > "লিস্ট" নংঃ ৪২ অনুশোচনার মৃত্যু #সাইকো ০১ নিধির কল এল, ধরতেই -- কুত্তা হারামজাদা, লম্পট, জানোয়ার..!! -- কি হয়েছে ব্যব্বি? তুমি বোকছো কেন? -- শুয়োর, তোরে বলছিলাম ******না.. লুইচ্চা, বেজন্মা, এখন আমার কি হবে..!! -- কি বলো? আমি-তো ভিতরে ফালাইনি.. -- ফালাইসোস, নাইলে আমার পেটে বাচ্চা আইলো ক্যমনে? তুই-তো আর স্বপ্নে দিয়া যাস নাই.. ঢোক গিললাম, হতেও পারে স্বপ্নে ওরে কতবার **** তার হিসাব নাই.. আর শেষ বার যদিও বেলুন ইউজ করছি, তবুও হয়তো বেলুন ফুটো ছিলো... মনে মনে প্যান্থার কোম্পানিরে গালি দিলাম ৷ আবার বলা শুরু করলাম .. -- এখন কি করবো ব্যব্বি? নিধি - কি আর করবা? হসপিটালে আসো যলদি.. এ্যবরেশন ছাড়া উপায় কি? আমি আর কিছু ভাবলাম না, উঠে কিছু টাকা পয়সা ধার করে চললাম হসপিটালের দিকে ৷ যেতেই দেখলাম নিধি বসে আছে, খুব টেনশনে আছে মেয়েটি মায়া হলো ৷ আমার জন্য মেয়েটি একটি জীবনকে ধংস করতে যাচ্ছে.. ডাক্তার সাব আসতেই ওকে নিয়ে ঢুকলো অটিতে.. আমি বাহিরে অপেক্ষা করছি, খুব ভয় হচ্ছে আমার.. হঠাৎ ডক্টর এসে বললো নিধির রক্ত লাগবে, না হলে তাকে বাচানো যাবেনা ৷ আমি রক্ত খুজতে যাবো ডাক্টার বললো আপনার ব্লাড গ্রুপ O+ না? আমি বললাম হ্যাঁ ৷ ডাক্তার বললো আপনি পারবেন রক্ত দিতে ৷ কিন্তু আমার ব্লাড গ্রুপ নিধির ব্লাড গ্রুপ এক না৷ ডাক্তার বললো আপনি সবাইকে রক্ত দিতে পারবেন, আপনি সর্বজনিন দাতা.. সাঁত-পাঁচ না ভেবে আমি ঢুকলাম রক্ত দিতে,
By kolpobazz
নীল ডায়েরি থেকে > "লিস্ট" নংঃ ৪২ অনুশোচনার মৃত্যু #সাইকো নিধির কল এল, ধরতেই -- কুত্তা হারামজাদা, লম্পট, জানোয়ার..!! -- কি হয়েছে ব্যব্বি? তুমি বোকছো কেন? -- শুয়োর, তোরে বলছিলাম ******না.. লুইচ্চা, বেজন্মা, এখন আমার কি হবে..!! -- কি বলো? আমি-তো ভিতরে ফালাইনি.. -- ফালাইসোস, নাইলে আমার পেটে বাচ্চা আইলো ক্যমনে? তুই-তো আর স্বপ্নে দিয়া যাস নাই.. ঢোক গিললাম, হতেও পারে স্বপ্নে ওরে কতবার **** তার হিসাব নাই.. আর শেষ বার যদিও বেলুন ইউজ করছি, তবুও হয়তো বেলুন ফুটো ছিলো... মনে মনে প্যান্থার কোম্পানিরে গালি দিলাম ৷ আবার বলা শুরু করলাম .. -- এখন কি করবো ব্যব্বি? নিধি - কি আর করবা? হসপিটালে আসো যলদি.. এ্যবরেশন ছাড়া উপায় কি? আমি আর কিছু ভাবলাম না, উঠে কিছু টাকা পয়সা ধার করে চললাম হসপিটালের দিকে ৷ যেতেই দেখলাম নিধি বসে আছে, খুব টেনশনে আছে মেয়েটি মায়া হলো ৷ আমার জন্য মেয়েটি একটি জীবনকে ধংস করতে যাচ্ছে.. ডাক্তার সাব আসতেই ওকে নিয়ে ঢুকলো অটিতে.. আমি বাহিরে অপেক্ষা করছি, খুব ভয় হচ্ছে আমার.. হঠাৎ ডক্টর এসে বললো নিধির রক্ত লাগবে, না হলে তাকে বাচানো যাবেনা ৷ আমি রক্ত খুজতে যাবো ডাক্টার বললো আপনার ব্লাড গ্রুপ O+ না? আমি বললাম হ্যাঁ ৷ ডাক্তার বললো আপনি পারবেন রক্ত দিতে ৷ কিন্তু আমার ব্লাড গ্রুপ নিধির ব্লাড গ্রুপ এক না৷ ডাক্তার বললো আপনি সবাইকে রক্ত দিতে পারবেন, আপনি সর্বজনিন দাতা.. সাঁত-পাঁচ না ভেবে আমি ঢুকলাম রক্ত দিতে, ০২ ডাক্তার সাব ইনজেকশন বানাচ্ছেন আমি বসে আছি , কিন্ত খেয়াল করলাম তিনি প্যথেড্রিন রেডি করছেন , ওষুধ বিসয়ে কিছু জানা ছিল বিধায় বুঝতে পারলাম কোন গণ্ডগোল হতে জাচ্ছে । তাই আমি সাত পাচ না ভেবেই ডাক্তার সাব কে বললাম আচ্ছা ডাক্তার সাব রক্ত নিতে কি অজ্ঞান করতে হয় , কি চলছে এখানে । বলেই পকেট থকে চাকুটা বের করে বললাম । চাকু দেখে তিনি ভয় পেয়ে বললেন দেখুন আমার কোন দোষ নেই । অই নিধি ই সব করতে বলছে । ওর নাকি আইফন দরকার কিন্ত আপনি দিচ্ছেন না তাই বল্ল কিডনি নিতে । ডাক্তারের কথা শুনে আমি তব্দা খেয়ে গেলাম। মাথা কাজ করছে না। ইস যদি এখন না বুঝতে পারতাম কি হত তাহলে। মাথার রক্ত গরম হয়ে ফুটছে , আমার সাথে চালাকি , দারাও বেব্বি দেখাচ্ছি মজা । ডক্টরকে বললাম এখন আমি জা বলব আপনি তাই করবেন । উলটা পালটা হলে খবর আছে। বলেই ছুটে গেলাম নিধির কাছে। নিধি আমাকে দেখে ঝটকা খেল ।হয়ত মনে মনে ভাবছে সালা এখন ও ড্যং ড্যং করে হেটে বেরাচ্ছে। কিছুখন বাদে বল্ল তুমি এখন ও রক্ত দাওনি । তুমি কি চাও আমি মরে যাই । আমি বললাম না বেব্বি , তা হবে কেন । আসলে হইছে কি তোমার রক্তের একটু স্যম্পল লাগবে তাই ডক্টর তোমাকে ডাকছে । সে বল্ল দেখ আমি নড়তে পারছি না । আমাকে কোলে তুল না ও । আমিও তাহার কথামত ভদ্র বফের মত তাকে কোলে নিয়ে বেডে শুয়ালাম । ডক্টর কে বললাম আপনি স্যম্পল নিন। ডক্টর কথামত তাহার কাজ কমপ্লিট করল । ০৩ নতুন আইফোন এক্সটা মাত্র কিনলাম । দেখতে হেব্বি , একেবারে নিধির মত হট । ওহ নিধির কথা মনে পরতেই ছুটে গেলাম পশ্চিম পারার ডাস্টবিন্টার কাছে। ময়লার গন্ধে দাঁড়ানো জাচ্ছে না এখানে কিন্ত বেচারি সানন্দে এখনও ঘুমাচ্ছে । হয়ত ঘুমের মদ্ধেও আইফোন এর স্বপ্ন দেখছে। কারন বোঝা জাচ্ছে স্বপ্নটা মজার , চেহারায় তার ছাপ ফুটে উঠছে । হালকা পানি ছিটালাম নিধির মুখে। জেগে উঠল সে, উঠেই অবাক দৃষ্টিতে এদিক অদিক করছে। হয়ত বুঝতে পারছে না জান্নাত নাকি জাহান্নামে আছে সে। আর যখন বুঝতে পারল ওয়াক করে বমি করা শুরু করল। আর বমির সাথে বেড়িয়ে আসতে লাগল রক্ত । রক্ত দেখে ভয়ে কথা বলতে পারছে না মেয়েটা । দেখে মায়া লাগবে যে কারোর ই । তবে আমার লাগছে না। মনের মধ্যে খুব শান্তি লাগছে এক কথায়। একচল্লিশটা খুন করার পর হয়ত এম্নিতে ও কারো মনে মায়া থাকে না। নিধি বিয়াল্লিশ নম্বরে আছে । এইসব কথা যখন ভাবছি দেখলাম নিধি কথা বলতে চাইছে । কিন্ত ফিস ফিস করা ছাড়া আর আওয়াজ বের হচ্ছে না। আমি তার কথা শুনতে তার কানের কাছে মুখ নিলাম। অস্পষ্ট জা শুনতে পেলাম তা হল " জানোয়ার , কি করছিস তুই আমার সাথে।" তোকে আল্লাহ ক্ষমা করবে না বলে দিলাম আমার সাথে খ্রাপ কিছু করলে।আর তুই আমায় এখানে রাখছিস কেন , অই কুত্তা , বজ্জাত । আমি বললাম বেশি কিছুনা বেব্বি । শুধু তোমার কিডনি নিয়েছি । হয়ত তুমি আর বাচবা না তবে তোমার স্বপ্ন আমি পুরন করে দিচ্ছি । এই যে দেখ আইফোন এক্স ।যেহেতু আজ থেকে তুমিও আমার এক্স হবা। তাই এটাই কিনলাম তোমার জন্য । এই নাও তোমার ফোন আর এই যে ক্যমেরা এনে দিলাম সুন্দর করে একটা পিক তুলে আমাকে সেন্ড কর , আমি না হয় তোমাকে ট্যগ করে পোস্ট দিয়ে দিব । নিধি কাদছে।হয়ত ভুল বুঝতে পেরে। হয়ত বা আইফোন পাবার খুশিতে। শুনেছি মেয়েরা ঙ্কি খুশিতেও কাদে। কি জানি ওসব ভাবতে ইচ্ছে করছে না । মেয়েটার এক হাতে আইফোন আর এক হাত দিয়ে কোমর চেপে শুয়ে আছে । উঠতে পারছে না। হয়ত গালি দিচ্ছে এখন ও আমায় । কিন্ত তাতে কি আমার ওতে কিছু আসে যায় না। মেয়েটার ঠোট কাপছে । হয়ত আবার কিছু বলতে চাচ্ছে । আমি আবার কানের কাছে মুখ নিলাম । সে বলছে পানি পানি। পকেট থেকে পানির বোতলটা বের করলাম , নিজ হাতে পানি খাওয়াচ্ছি নিধিকে ।আগে ও তাকে এমন করে অনেক খাইয়েছি । তবে আজকের আর তখনকার মধ্যে অনেক তফাৎ । পানি খেয়েই মেয়েটা আবার ঘুমিয়ে পরল । সন্ধ্যে হয়ে জাচ্ছে । নীল আকাশ ধারন করছে কালো বর্ণ । আর অইদিকে নিধির সাদা শরিরে জমাট বাধছে নীল রক্ত। আমি ডাইরিটা খুললাম , নীল কালি দিয়ে নিধি নামটাকে আন্ডারলাইন করলাম । নিচে লিখলাম অনুশোচনার মৃত্যু । #সাইকো rpst bt edited
By kolpobazz
Saturday, March 9, 2019
নীল ডায়েরি থেকে > "লিস্ট" নংঃ ০১ (পর্বঃ০১) #সাইকো তখন আমি খুব ছোট । সবে মাত্র ক্লাস ফোর কি ফাইভ এ পড়ি । ক্লাসে খুব একটা না পারলে ও খারাপ ছিলাম না। তবে কেন জানি ক্লাসের মেয়েদের ঝোঁকটা কেবল আমার ওপর ই ছিল । কিন্ত তাদের প্রতি আমার বিন্দুমাত্র ও আগ্রহ ছিল না। আমার আগ্রহের বিসয়বস্তু ছিল অন্যরকম । এই যেমন সবাই যখন মাঠে খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকত , আমি তখন বেরিয়ে পরতাম নতুন কোন শিকারের খোজে । হয়ত কোন পাখি ধরে জ্যন্ত চামড়া ছারিয়ে তাতে লবন মরিচ দিয়ে দিতাম ।পাখিটা মারা জাবার আগ পর্যন্ত ছটফট করত , আর আমার কেন জানি মনের ভেতর খুশি লাগত।একবার এমন পাশের বাসার বিড়ালটা যখন আমার মাছে টুক্রাটায় হানা দিল,প্রতিজ্ঞা করেছিলাম একে তিল তিল করে কষ্ট না দেয়া পর্যন্ত আর ভাত খাব না। বেশি কষ্ট করতে হয়নি । পরদিন ই শায়েস্তা করেছিলাম শুয়োরটাকে । কত বড় সাহস আমার প্লেট থেকে মাছ নেয়া। চুরি করায় পটু হলে ও সালা আসলে ছিল ছাগল একটা । মাথায় বুদ্ধি সুদ্ধি কিছুই নেই । একটা মাছএর লোভ দেখাআতেই কিছু না ভেবে আমার পেতে রাখা মাছ ধরার কারেন্ট জালের মধ্যে ঢুকে পরল । দেরি করিনি এক্টুও । সোজা বারি বসিয়ে দিয়েছিলাম মাথার উপর । বারি খেয়ে লাট্টুর মত কতখন ঘুরে ফিরে যখন ঠাণ্ডা হয়ে গেল আমি তাহাকে নিয়ে একটা তক্তায় শোয়ালাম । চার পায়ে চারটা পেরেক মারলাম।বেচারা একটু ও শব্দ করেনি।হয়ত আগের বারির শকেই সালা বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল । পেরেক মেরে বাসা থেকে আনা কেরোসিন তার গায়ে ঢাললাম ।সালা তখন ও চোখ মেলে টিপ টিপ[ করে তাকাচ্ছে কিন্ত কিছু বলতে পারছে না।কেরোসিন লাগিয়ে একটা গাছের সঙ্গে উলটা করে বাদলাম । এরপর দিলাম তার গায়ে আগুন লাগিয়ে । আগুন জ্বলছে । আস্তে আস্তে আগুন ছরিয়ে পরছে পুরো গায়ে। বিড়ালটা চি চি করছে । হয়ত বলছে ভাই ভুল হইছে । ক্ষমা করে দেন। কিন্ত কি করব তখন ক্ষমা চেয়ে কি লাভ।তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে । বাতাসে ঘুরছে বেধে রাখা তক্তাটা । আস্তে আস্তে আগুন বারছে । চি চি শব্দটাও আর শোনা জাচ্ছে না ।আহ পথের একটা কাটা দূর হল ভেবেই শান্তি লাগছে। নাহ সন্ধে হয়ে জাচ্ছে বাড়ি জেতে হবে ভাবতে ভাবতে বাড়ির দিকে হাটা ধরলাম আর ভাবতে লাগ্লাম আজকে একটা জম্পেস ঘুম হবে ।
By kolpobazz
Friday, March 8, 2019
নীল ডায়েরি থেকে > "লিস্ট" নংঃ ৪৩ #সাইকো মেয়েটা গর্বিত ভঙ্গিতে বললো, ‘এখন পর্যন্ত আমার জন্য তেরোজন ছেলে সুইসাইড করেছে। তার মধ্যে আবার দুইজন ভার্সিটি পড়ুয়া আর একজন ডাক্তার।’ এই কথা শুনে আমার ঠিক কোন ধরনের রিয়্যাকশন দেয়া উচিত আমি বুঝতে পারলাম না। হাসবো, দুঃখ পাবো, নাকি অবাক হবো? আমি অবিশ্বাসের ভঙ্গি করে বললাম, ‘সিরিয়াসলি? এতোজন ছেলে?’ মেয়েটা কিছুক্ষণ চুপ করে আমার দিকে চেয়ে রইলো। তারপর ব্যাগ থেকে ডায়েরী মতো কিছু একটা বের করে খুলে আমার সামনে রেখে বললো, দেখেন। আমি দেখলাম একটা লিস্ট। এক থেকে তেরো পর্যন্ত তেরোজনের নাম লেখা। আমি চোখ বুলালাম। লিস্টের এক নাম্বার নাম, আসিফ ইকবাল। পাশে লেখা, সুইসাইডের কারন- ‘তিনমাস প্রেম করার পর ছ্যাকা।’ তার পাশে লেখা, সুইসাইডের মাধ্যম- ‘ঘুমের ঔষধ খেয়ে মৃত্যু।’ লিস্টের দুই নাম্বারে, সঞ্জয় সরকার। সুইসাইডের কারণ, ‘হিন্দু বলে কয়েকমাস ঘুরিয়ে তার প্রেমে শেষ অবধি সাড়া না দেয়া।’ সুইসাইডের মাধ্যম- ‘গলায় দড়ি।’ এইভাবে মোট তেরজনের ব্যাপারে সুন্দরভাবে বিস্তারিত লিখে রাখা। মাঝে আট আর এগারো নাম্বার নীল কালিতে লেখা, তের নাম্বার লেখা সবুজ কালিতে। আমি প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে চাইতেই মেয়েটা বললো, নীল কালিতে লেখা দুজন ভার্সিটি পড়ুয়া। একজন ডিইউ আরেকজন চিটাগাং ইউনি। আর সবুজ কালিতে যে জনের নাম লেখা সে ডাক্তার ছিলো। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের। তারপর একটু আফসোস করে বললো, বুয়েট আর কুয়েটের দুইজনও আমার জন্য এটেম্পট করেছিলো কিন্তু শেষপর্যন্ত বেঁচে যায়। বুয়েটের জন তো চারতলা থেকে লাফ দিয়ে টানা তিনদিন আইসিইউতে ছিল। ডাক্তার বলেছে তার বেঁচে ফেরাটা মিরাকল। ইস! ০২ আমি ভালোভাবে মেয়েটার দিকে চাইলাম। রেস্টুরেন্টের মৃদু আলোতেও বেশ স্পষ্ট টের পাওয়া যাচ্ছে। অনিন্দ্য সুন্দরী। এরকম কোনো মেয়েকে দেখেই বুঝি কবি বলেছিলেন, ‘মুনিগণ ধ্যান ভাঙি দেয় পদে তপস্যার ফল।’ মেয়েটার সাথে আমার পরিচয় ফেসবুকে। আমার লেখা গল্পের নাকি খুব ফ্যান ও। একদিন রাতে ইনবক্সে নক করে বলে, আমাকে একটা ইন্টারেস্টিং গল্প শোনাতে চায়। মেসেঞ্জারে বা ফোনে না, সামনাসামনি। প্রোপিকে ডল পুতুল আর কভারে লতাপাতার ছবি দেয়া প্রায় ফেক আইডির মতো কারো এই টাইপ আহবানে সাড়া দেয়ার কোনো ইচ্ছাই আমার ছিলোনা। আমি না বলে দেই সরাসরি। মেয়েটা তখন মেসেঞ্জারে একটা ভয়েস এসএমএস পাঠায়। মেয়েলী কন্ঠের অনুরোধ, ‘সোহাইল প্লিজ, আমার সাথে একটা বার দেখা করেন। প্লিজ প্লিজ প্লিজ।’ আমি কন্ঠ শুনে টানা বিশ মিনিট সোজা বাংলায় যাকে বলে তব্দা খেয়ে বসে থাকি। এতো সুন্দর, আইমিন এতো এতো সুন্দর কন্ঠ একটা মানুষের কিভাবে হতে পারে? উফ! যেকোনো বিখ্যাত গায়িকা এই মেয়ের কাছে জাস্ট ডালভাত। আমি তখনই সিদ্ধান্ত নেই এই অদ্ভুত সুন্দর কন্ঠের মালকীনকে যেভাবেই হোক সামনাসামনি দেখতেই হবে আমার। আর আজ তার গল্প শুনতে এসে মেয়েটাকে দেখে আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসলো। বুকের মধ্যে এতো জোরে জোরে ধুকপুক শব্দ শুরু হলো যে আমি ভয়ই পেয়ে গেলাম রেস্টুরেন্টের মানুষজন বাইর থেকে আমার হৃদযন্ত্রের ধুকপুকানি শুনে না ফেলে। শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া গলা ভেজাতে এক চুমুকে সামনে রাখা গ্লাসের পানি শেষ করে অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম আমি মেয়েটার প্রেমে পড়ে গেছি। ০৩ মেয়েটা বলে আর কতক্ষণ চালাবো এবারে একটা নাম দেই। আসলা নামটা বলা যাবেনা, তাই একটা ফেক নাম দিয়ে দেই গল্প এগিয়ে নেয়ার খাতিরে। আচ্ছা ধরি ওর নাম তৃষা। আমাকে চুপ করে থাকা দেখে তৃষা বললো, ‘আপনি কিছু ভাবছেন?’ ওর কথায় বাস্তবে ফিরলাম। আমতা আমতা করে বললাম, ‘তোমার গল্পটা বললা না তো। কি গল্প যেন শুনাতে চাইছিলা।’ হ্যা, হ্যা, তৃষা ভুলে গেছিলো এখন মনে পড়েছে টাইপ ভঙ্গি করে হাসলো। হাসি দেখে আমার হার্ট অলমোস্ট আরো কয়েকটা বিট মিস করলো। তৃষা বললো, ‘গল্পটা আসলে লাস্ট যে ছেলে সুইসাইড করেছে আমার জন্য তাকে নিয়ে। ঐ যে বললাম না ডাক্তার যে জন। নাম রাফি আহমেদ। ওর সাথে আমার পরিচয় হয় একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে। আমার কাজিনরা ওকে দেখে কানাঘুষা করছিলো। ছেলেটা ডাক্তার, তার উপরে খুবই হ্যান্ডসাম, সব মেয়েদের ক্রাশ, ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি ওদের কথা শুনেই ঠিক করে ফেলি রাফি নেক্সট টার্গেট। কারন আমার অনেকদিনের স্বপ্ন কোনো ডাক্তার ছেলেকে ফাঁসানো। ডাক্তার ছেলে ছাড়া আমার লিস্টটা কেমন যেন ফাকা ফাকা লাগছিলো। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে এরকম অনেককেই সুইসাইডের চেষ্টা পর্যন্ত তো অন্তত নিতে পেরেছি, কিন্তু এখন অবধি কোনো ডাক্তারের সাথেই আমার প্রেম করা হয়নি। হ্যা, আপনাকে বলে রাখি যে আমি নিজে একজন মেডিকেল পড়ুয়া। সুতরাং ডাক্তার ছেলে বিহীন আমার লিস্টটা থাকা আমার জন্য অপমানেরও বটে। তো যেই ভাবা সেই কাজ, আমি কাজিনকে বলি ছেলেটার সাথে আমার যেন পরিচয় করিয়ে দেয়। কাজিন রাজি হয়। রাফিকে ডেকে এনে আমার সাথে পরিচয় করায়। আমিও ডাক্তারি পড়ছি শুনে খুব ইমপ্রেস হয়ে যায় ও। আমরা ঘন্টাখানেক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গল্প করে ফিরে যাওয়ার সময় একে অন্যের ফোন নাম্বার নিয়ে রাখি। ০৪ পরদিন রাতে কল দেয় রাফি। তার পরদিন আবার। তার পরদিন আবার। ঠিক দুইসপ্তাহ হর আমাকে প্রপোজ করে ছেলেটা। আমি ভেবেছিলাম এক সপ্তাহতেই কাজ হবে। কিন্তু আমার ধারনা ভুল প্রমাণিত হওয়ায় আমার ভীষণ রাগ হয়। আমি ঠিক করি, আমাকে এতোদিন ঘুরানোর জন্য কঠিন প্রতিশোধ নিবো। সুইসাইড করাবো খুব অল্প সময়ের মধ্যেই। অন্যদের মতো দীর্ঘদিন অপেক্ষা করবো না। সেইমত আমি একটা প্লান ঠিক করি। তারপর ওর প্রপোজ একসেপ্ট করি। পরবর্তী দশদিন আমরা টানা পাগলের মতন প্রেম করি। পুরা সখি ধর ধর অবস্থা। গল্পের মাঝে তৃষা হাসে হি হি করে। হাসি থামিয়ে বলতে থাকে, আমি এমন ভাব করি যেন এক মুহুর্ত ওকে ছাড়া থাকতে পারিনা টাইপ। একটু পর পর ফোন দেয়া, ডেইলি ওর হোস্টেলের সামনে এসে দাঁড়ায়ে থাকা, ওকে বাসা থেকে রান্না করে নিয়ে গিয়ে মুখে তুলে খাইয়ে দেয়া, ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি যখন বুঝতে পারলাম ছেলেটা আমার প্রেমে পাগলপ্রায় তখন ঠিক দশদিন পর ওকে বলি তুমি আজ এক্ষুণি আমাকে বিয়ে করবা। আমি তোমাকে আমার ভেতরে ধারণ করতে চাই। কিন্তু ইউ নো, বিয়ে ছাড়া শারিরীক সম্পর্ক হারাম। সো তুমি আজই বিয়ে করবা আমাকে কাজি অফিসে। রাফি আমতা আমতা করে। বলে, ‘বিয়ে করলে খাওয়াবো কি? আমাদের ফ্যামিলি কি বলবে? হ্যান ত্যান।’ আমি সমাধান দেই। দেখ, আমরা বিয়ে করে রাখবো কিন্তু কাউকে বলবো না। মাঝে মাঝে একসাথে রাতে থাকবো শুধু। দুজনই যেহেতু হোস্টেলে থাকি সেহেতু প্রবলেম হবে না। তারপর কয়েক বছর পর আমাদের লেখাপড়া শেষ হলে ফ্যামিলিকে সব জানাবো। রাফি খুশি হয়ে রাজি হয়। আমরা সেদিনই কাজি অফিসে গিয়ে বিয়ে করি। রাতে একটা হোটেলে স্বামী স্ত্রী পরিচয়ে কাবিননামা দেখিয়ে রুম ভাড়া করি। আমাদের বাসর হয় হোটেল কক্ষে। ফিজিকাল রিলেশন করি আমি আর রাফি। ‘হোয়াট! এইবার আমি ছোটখাটো একটা চিৎকার দেই। তুমি সিরিয়াসলি ওর সাথে সেক্স করেছিলে?’ ‘হ্যা, করেছিলাম। এগুলো নিয়ে আমার তেমন কোনো এলার্জী নেই। আগেও বহুবার করেছি। তুমি গল্প শুনো।’ আমি লক্ষ্য করলাম সে আমাকে আপনি থেকে তুমিতে নামিয়ে এনেছে। আমি গল্প শুনতে আগ্রহী ছিলাম। চোখমুখ শক্ত করে বললাম, ‘তারপর কি হলো বলো।’ ‘তারপরের গল্প খুব বেশি না। পরদিন সকালে আমি হোটেল থেকে চলে আসি। দুইদিন ওর সাথে কোনো যোগাযোগ রাখিনা। ও প্রায় পাগল হয়ে যায় আমার কোনো খোজ না পেয়ে। তৃতীয় দিন আমি ওকে বলি আমার ডিভোর্স চাই। কারণ হিসাবে বলি, তুমি শারীরিক ভাবে অক্ষম। আমাকে পূর্ণ তৃপ্তি দিতে পারোনি। তোমার সাথে সম্পর্ক রাখা সম্ভব না।’ ০৫ ইউ নো, তোমার জানার কথা একটা ছেলের কাছে এই জিনিস কতটা অপমানের। রাফি উত্তরে কিছুই বলতে পারেনা। চুপচাপ চলে যায় সামনে থেকে। পুরোপুরি ভেঙে পড়ে ও। ড্রাগ নেয়া শুরু করে। আমি তখন ওকে আরো জ্বালিয়ে দিতে দুইদিন পরই অন্য এক ছেলের সাথে রিলেশনে যাই। ফেসবুকে ইন এ রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস দেই। আমাদের কিছু অন্তরঙ্গ ছবি ওকে পাঠাই। বলি তুমি যেটা পারোনি এই ছেলে সেটা আমাকে নিয়মিত দিতে পারছে। রাফি আর সহ্য করতে পারেনা। প্রচন্ড ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। আমি ওকে আরো নানাভাবে অপমান করতে থাকি। মেসেজ দেই, আজ আমার বাবু পুরো বিশ মিনিট করেছে। আর তুমি তো ছিলে পুরুষত্বহীন। ভাগ্যিস তোমাকে ছেড়েছিলাম টাইম মতো। ফাইনালি সহ্যের ক্ষমতা বুঝি শেষ হয় ওর। পরদিন ঘুম থেকে উঠে আমি কাঙ্ক্ষিত খবর পাই। তখনই সবুজ কালিতে ডায়েরীর পাতায় লিস্টটা বারো থেকে তের করি। গল্প শেষ করে তৃষা আমার দিকে তাকায়। আমি সামনে রাখা ডায়েরী দেখি। নাম্বার তের, রাফি আহমেদ। বিয়ে, ডিভোর্স, পুরুষত্বহীনতার অপবাদ। ছয়তলার ছাদ থেকে লাফ দেয়া। ০৬ শুরুতেই ধারনা করেছিলাম, এবার শিওর হলাম। তৃষা নামের এই অতি সুন্দরী মেয়েটা একজন সাইকো। কিন্তু আমি তারপরও সিদ্ধান্ত নিলাম প্রেম আমার এর সাথেই করতে হবে। আমার নিজের উপর ভরসা অনেক। এই সাইকো মেয়েকে আমি ঠিক সুস্থ করে তুলবো। আমি তৃষার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসি। আসার সময় নাম্বার চাই। ও দেয়। আমিও আমার নাম্বার দিই। তৃষা বাসায় গিয়ে ডায়েরীটা বের করে। লাল কালী দিয়ে বড় বড় করে লেখে, ‘নেক্সট টার্গেট সোহাইল রহমান- একজন লেখক।’ আমি পরদিন ওকে ফোন দিয়ে বিকালে দেখা করতে বলি। রেস্টুরেন্টে আবারো আমার মুখোমুখি তৃষা। আমি কথা বলি, ‘দেখ, আমি খুব স্ট্রেইট কাট একজন মানুষ। যা বলার সরাসরিই বলি। আমি তোমার গল্প শুনেই বুঝেছি তুমি মানসিকভাবে অসুস্থ। কিন্তু তারপরও আমি তোমার প্রেমে পড়ে গেছি। আমি আমার লাইফে তোমাকে চাই। সারা জীবনের জন্য। আমি তোমার অতীতের সবকিছু ভুলে যেতে রাজি আছি। তোমার বাকি জীবনের জন্য তুমি আমাকে একমাত্র পুরুষ বানাও, আমি তোমাকে সুস্থ করে তুলবো। আই লাভ ইউ, ডু ইউ লাভ মি? হ্যা অথবা না বলো। যদি হ্যা বলো, তো আমি প্রমিজ করছি তোমার জীবন বদলে দেব একদম। তোমার জন্য আর কোনোদিন কোনো ছেলে সুইসাইড করবে না। তবে, তুমি এটা ভেবেও হ্যা বলতে পারো যে আমি তোমার নেক্সট টার্গেট। সেক্ষেত্রে আমি তোমাকে ওপেন চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। চলো প্রেম করি। দেখি কে সাকসেসফুল হয়। আমি তোমাকে ঠিক করে ফেলি, নাকি তোমার জন্য আমিই সুইসাইড করি। ধরবা বাজি? লাগবা চ্যালেঞ্জ?’ তৃষা অনেক্ষণ চোখ সরু করে রেখে বলে, ‘লাভ ইউ টু। আমিও আসলে ভালো হয়ে যেতে চাই সোহাইল। প্লিজ হেল্প মি।’ মনে মনে অবশ্য কুৎসিত একটা হাসি দিয়ে বলে, ‘চ্যালেঞ্জ একসেপ্টেড।’ ০৭ তৃষা আমার প্রেমিকা। আমরা এখন বয়ফ্রেন্ড গার্লফ্রেন্ড। মাত্র চার পাঁচ দিনেই আমি বুঝে ফেলি পাগলের মতো প্রেম বলতে আসলে কি বুঝায়! তৃষা যেন একদম বদলে গেছে। আমাকে একটা রুটিন করে দিয়েছে, যেটা ও আর আমি দুজনই মানবো এখন থেকে। রুটিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আছে, ঠিকমতো খাওয়া আছে, ফেসবুকিং করার জন্য সময় আছে, ওর সাথে কতক্ষণ ফোনে কথা হবে আর কতক্ষণের জন্য দেখা হবে ডেইলি, সেটাও লেখা আছে। আমি রুটিন মেনে চলি। দিনগুলো কাটে স্বপ্নের মতন। তারপর ঠিক এক সপ্তাহ পর তৃষা আমাকে মেসেজ পাঠায়, ‘তোমাকে এক্ষুণি হাগ করতে ইচ্ছা করতেছে আমার। এক্ষুণি এক্ষুণি এক্ষুণি। তুমি ব্যবস্থা করো।’ আমি এক বন্ধুর ফ্লাটের চাবি নিয়ে বন্ধুকে পাঠিয়ে দেই সিনেমা দেখতে। আসতে বলি তৃষাকে। তৃষা আসে। কপট ঢং করে বলে, ‘শুধু হাগ হবে কিন্তু, আর কিচ্ছুনা, ওকে?’ আমি আচ্ছা বলে জড়িয়ে ধরি ওকে। হাগ আস্তে আস্তে কিস অবধি গডায়। কিস সেক্স অবধি। তৃষা আমার পাশে শুয়ে জামা পরতে পরতে বলে, কাজটা তুমি কিন্তু একদম ঠিক করলা না। আমি ভেবেছিলাম ভালো হয়ে যাবো। তোমার জন্য পারলাম না। ফাজিল কোথাকার। আচ্ছা স্যরি, আমি প্রমিজ করি, এই ভুল আর কক্ষণো হবে না। তুমি বসো আমি কফি বানিয়ে আনছি। ক্যাপুচিনো না এক্সপ্রেসো? বাসায় কফি মেকার আছে। তৃষা মুচকি হেসে বলে, ‘আমি ডায়েট করছি। সিম্পিল ব্লাক।’ ব্লাক কফি খেয়ে তৃষা নীল হয়ে যায়। আমি চাদর দিয়ে ওর শরীর ঢেকে নিজের ব্যাগ থেকে ডায়েরী বের করি। নীল কলম বের করে লিখি তেতাল্লিশ। ফারজানা হাসান মিম। সেক্স প্লাস খুন; দুটোই কমপ্লিট। হ্যা, ওর আসল নাম এইটা। আমার মিশন কমপ্লিট, এখন আর ফেক নাম দিয়ে কি হবে। আর ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারের পার্থক্য নেই, সবার জন্যই আমি নীল ব্যবহার করি। কেন, কে জানে! হয়তো বিষের রঙ নীল এজন্য। অথবা হয়তো কারনটা নীল- বেদনার রঙ বলে! নীল ডায়েরির সব গল্পগুলি এখন থেকে নিয়মিত পোষ্ট করব।
By kolpobazz
Thursday, March 7, 2019
আজ শুক্রবার সবার ছুটি, আজকের রাত টা একটু লম্বা হবে, সকাল টা একটু দেরীতে হবে। অনেক গুলি পছন্দের খাবার থাকবে টেবিলে সাঁজানো। আমি নিশ্চিত আমি যখন পোস্ট টা লিখছি তখন সবার ছুটি হলেও, একটা মানুষের আজীবনে কোনো ছুটি নেই। আজ সে মানুষ টার ছুটি থাকলে, রাত টা আরো ছোট হত, সকাল টা আরো সকালে হত। হ্যা আমি তার কথাই বলছি যে মানুষ টা জেগে উঠে বলেই সবার জীবনে ছুটি আসে। আমি আমার আম্মার কথা বলছি, আমি তোমাদের আম্মার কথা বলছি। আজ মা দিবস না, বিশ্ব নারী দিবস। তবু কেন মায়ের কথা বলছি? আমার কাছে মা দিবস আর নারী দিবস একই মনে হয়। পানি যেমন যত রুপেই দেখ আদতে সে পানি, নারীও তেমন যত রুপে দেখ আদতে সে একজন মা। আজ যে মা, সেও একজন মেয়ে, সেও একজন বউ। মায়েরা মা হয়ে জন্মায় না, মেয়ে হয়েই জন্মায়। এখন যে মেয়েটাকে মেয়ে ভেবে যা খুশি করছ সেই একদিন তোমার সন্তানের জননী হবে। পৃথিবীর অনেক নারী খারাপ হতে পারে কিন্তু মায়েরা কখনো খারাপ হতে পারেনা। প্রতিটা মেয়ের মাঝে একজন মা থাকে, দোষ ত্রুটি সামলে নিয়ে একদিন সে মা হয়ে ঋন মুক্ত হয়ে যায়। সব নারী বেহেশতে যাবেনা, অথচ স্বর্গ সব নারীর পদতলে, যাকে তুমি প্রেমিকা ভেবে ঠকাচ্ছ বা বউ করে পিটাচ্ছ তার দুটি পায়ের নিচে তোমার সন্তানের ঠাঁই! #আচ্ছা নারী দিবস টা নারীদের ইচ্ছা পূরনের দিন হতে পারেনা? আজ তো শুক্রবার ছুটির দিন, আজ যার যার ঘরের নারীদের একটা ইচ্ছা পূরন করা যায়না? কিছু না হোক হাতে এক গুচ্ছ ফুল তুলে দিয়ে বলা যায়না আজ তোমার ছুটি!! crtsy asiq vai
By kolpobazz
Wednesday, March 6, 2019
Subscribe to:
Posts (Atom)
Popular Posts
-
Kolpobazz https://ift.tt/2ld6xMf