.কল্পলোকের কল্পবাজ একজন ভাল লেখককে সহজেই ভাল মানুষ ভেবে নেয়াটা বোকামী। যেমন একজন ভাল ডাক্তার ভাল মানুষ নাও হতে পারে। বাংলাদেশে যত জন ডাক্তার আছে এরা সবাই যদি ভাল মানুষ হত, যদি প্রত্যেকটা ডাক্তার দিনে তিনটা করে রোগী বিনা পয়সায় দেখত তাহলে আর এদেশে কেউ বিনা চিকিৎসায় মারা যেতনা।
Friday, April 5, 2019
মনে হচ্ছে দিন দিন একটু একটু করে বাড়ছে পাগল হবার ডোজটা । :( [ বউ বিভ্রাট ] #সাইকো ঘুম থেকে উঠেই মনে হল আজ শুক্রবার ...। তারাতারি গোসল করা দরকার ।☺️ ওয়াশরুমে যেতেই দেখি ভিতরে ঝর্না ছাড়া , তাই ভাবলাম বউ হয়ত গোসল করছে , উফ আজ তাহলে জম্পেস হবে গোসলটা 😍😍😍 এই জন্য বউ বউ করে ডাকছি আধা ঘন্টা ধরে কিন্ত কোন সাড়া পাচ্ছি না। প্রচুর চিন্তা হল ্,😔😔 কি হল বউটার ্, আবার মাথা ঘুরে পড়ে টরে গেল কিনা।😟 দরজাটাও লক করা , ভিতরে কি হচ্ছে বুঝতেও পারছিনা। নাহ আর ভাবতে পারছিনা । তাই ভেঙ্গেই ফেললাম দরজাটা ।🤠 কিন্ত একি ্,🧐🧐 দরজা ভেঙ্গে দেখি ঝর্না থেকে পানি পরছে কিন্ত ভিতরে ফাকা।😱😱 আশেপাশে বউ ত ভাল ব এর ছিটে ফোটাও নাইক্কা। কি হছে আমার সাথে বুঝতে পারছিলাম না তাই ... 🥺🥺 আমার কলিজার দুস্ত Tajrian রে ফোন দিয়া কইলাম দোস্ত বল তো কেমন হইল ব্যপারটা। আমার বউ গোসল করতেছিল কিন্ত এখন দেখি গোসলখানা ফাকা।😭😭 আমার কথা শুইনা ও কইল আরে ছাগল গোসল খানায় তোর বউ আসবে কইত্তে তুই তো বিয়াই করস নাই বলদটা।😂😂 ওর কথা শুনে মনে হল হ কথা তো সত্যি ।।😳😳 আমি তো বিয়াই করলাম না বউ আসবে কোত্থেকে। আর এরপর ই মনে পরল ধুরু ... রাতে ওয়াশরুম লক কইরা রাখছিলাম গোসল কইরা। কিন্ত ঝর্না আর বন্ধ করি নাইকা। ভাবছিলাম বউরে নিয়া আরামসে একটু গোসল করুম তা আর হলনা। 😭😭 আইজ শুক্রবার দিন্টাও ছ্যকা খেয়েই কাটিইয়ে দিতে হল ... প্রেম পাওয়া আর হল না। #এই সব দোষ আপনার সুবাহ কাল রাতে আপ্নে দুলাইভাই দুলাইভাই না করলে আজ এমন হত ই না 🤬🤬🤬🤬🤬
By kolpobazz
মনে হচ্ছে দিন দিন একটু একটু করে বাড়ছে পাগল হবার ডোজটা । :( [ বউ বিভ্রাট ] #সাইকো ঘুম থেকে উঠেই মনে হল আজ শুক্রবার ...। তারাতারি গোসল করা দরকার ।☺️ ওয়াশরুমে যেতেই দেখি ভিতরে ঝর্না ছাড়া , তাই ভাবলাম বউ হয়ত গোসল করছে , উফ আজ তাহলে জম্পেস হবে গোসলটা 😍😍😍 এই জন্য বউ বউ করে ডাকছি আধা ঘন্টা ধরে কিন্ত কোন সাড়া পাচ্ছি না। প্রচুর চিন্তা হল ্,😔😔 কি হল বউটার ্, আবার মাথা ঘুরে পড়ে টরে গেল কিনা।😟 দরজাটাও লক করা , ভিতরে কি হচ্ছে বুঝতেও পারছিনা। নাহ আর ভাবতে পারছিনা । তাই ভেঙ্গেই ফেললাম দরজাটা ।🤠 কিন্ত একি ্,🧐🧐 দরজা ভেঙ্গে দেখি ঝর্না থেকে পানি পরছে কিন্ত ভিতরে ফাকা।😱😱 আশেপাশে বউ ত ভাল ব এর ছিটে ফোটাও নাইক্কা। কি হছে আমার সাথে বুঝতে পারছিলাম না তাই ... 🥺🥺 আমার কলিজার দুস্ত Tajrian রে ফোন দিয়া কইলাম দোস্ত বল তো কেমন হইল ব্যপারটা। আমার বউ গোসল করতেছিল কিন্ত এখন দেখি গোসলখানা ফাকা।😭😭 আমার কথা শুইনা ও কইল আরে ছাগল গোসল খানায় তোর বউ আসবে কইত্তে তুই তো বিয়াই করস নাই বলদটা।😂😂 ওর কথা শুনে মনে হল হ কথা তো সত্যি ।।😳😳 আমি তো বিয়াই করলাম না বউ আসবে কোত্থেকে। আর এরপর ই মনে পরল ধুরু ... রাতে ওয়াশরুম লক কইরা রাখছিলাম গোসল কইরা। কিন্ত ঝর্না আর বন্ধ করি নাইকা। ভাবছিলাম বউরে নিয়া আরামসে একটু গোসল করুম তা আর হলনা। 😭😭 আইজ শুক্রবার দিন্টাও ছ্যকা খেয়েই কাটিইয়ে দিতে হল ... প্রেম পাওয়া আর হল না। #এই সব দোষ আপনার সুবাহ কাল রাতে আপ্নে দুলাইভাই দুলাইভাই না করলে আজ এমন হত ই না 🤬🤬🤬🤬🤬
By kolpobazz
Thursday, April 4, 2019
কফি শপটার ঠিক সামনেই তার সাথে প্রথম দেখা।সে উদভ্রান্তেরর মতো বসে ছিল। দেখেই বুঝলাম হয়ত ছিনতাইকারীর হাতে খোঁয়া গেছে তার ব্যাগ, মোবাইল ও টাকা-পয়সা। তারপর ও জিজ্ঞেস করলাম ‘আপনার কি কোনো প্রবলেম হয়েছে?’ মেয়েটি কথা বলতে পারছিল না।সুধু ফুপিয়ে ফুপিয়ে প্রচন্ড কান্না করছিলো। তবুও কোনোমতে টলতে টলতে এসে পাসে দাড়াল এরপর খুলে বলল সব। . তারপরই, একটু একটু করে আমাদের হাতে হাত রেখে পথচলা শুরু। পড়ন্ত বিকেলে ওর কাঁধে মাথা রাখার গল্প শুরু। এই মেয়েটাকে কেন যেন আমি খুব বুঝতাম। একটু-আধটু না। অনেক- অনেক বুঝতাম। আর ভালোবাসা? সেটা ছিলো প্রচন্ড রকমের। এবং শেষে, সেই মেয়েটাই একদিন আমার বিশ্বাসের উপর চরম আঘাত হানে। আমার বিশ্বাস, আমার ভালোবাসা সব গুড়িয়ে দিয়েছে। জান্নাত এখন আমার সামনে বসা। নিজ ইচ্ছেতে বসে নেই। আমি জোর করে বসিয়ে রেখেছি। শক্ত মোটা দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছি। মুখে ভারী স্কচটেপ পেঁচিয়ে রেখেছি। ওর সামান্যতম নড়বার শক্তিটুকু নেই। আমি খুব ঠান্ডা মাথায় ইস্ত্রী গরম করছিলাম হাই ভোল্টেজে। ওর হাতের তালুতে ভারী গরম আয়রন চেপে ধরলাম। আস্তে আস্তে আয়রন করতে লাগলাম। ওর চিৎকারটা বেরিয়ে আসতে পারছে না মুখে স্কচটেপ দিয়ে বাঁধার কারণে। যেই হাত দিয়ে ও আমার হাতে হাত রেখে সারাজীবন থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো, সেই হাত দিয়ে ও অন্য ছেলেদের শরির ছুঁয়েছে, তাদের আলিংগন করেছে,তাদের ভোগের বস্তু হয়েছে। আমার পবিত্র ভালোবাসাকেও পিষে মেরে ফেলেছে। ওর হাতের তালুর মাংস পোড়া গন্ধ বের হচ্ছে। আমি কয়েক সেকেন্ডের জন্য বিরতি দিলাম। ঠান্ডা গলায় বললাম-‘আমি এমনটা করতে চাই নি জান্নাত, বিশ্বাস করো এমনটা করতে চাই নি। তুমি আমাকে বাধ্য করেছো। জান্নাতে’র চোখের কোণ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। তীব্র কষ্টে মনে হয় এ রকমটা ঘটে। আমি ওর চুলে হালকা করে বিলি কেটে দিলাম। “আমাদের ভালোবাসাটা কত নিষ্পাপ ছিলো, তাই না জান্নাত?”-আমি ইস্ত্রী গরম করতে করতে বললাম ওকে। “আমি কতটা সুখী ছিলাম তোমাকে নিয়ে। কত স্বপ্নও দেখে ফেলেছিলাম। আমাদের একটা সংসার হবে। ঘর আলো করে একটা বাচ্চা থাকবে। আমি রাত করে অফিস থেকে বাসায় ফিরলে তুমি অভিমান নিয়ে বসে থাকবে। আমি মিষ্টি করে রাগ ভাঙ্গাবো”। নাহ সব সপ্ন ভেস্তে গেল। আমি আয়রন টা ওর অন্য হাতে চেপে ধরলাম। ও থরথর করে কাঁপতে লাগলো। তীব্র ব্যাথায় ওর শরীর নীল হয়ে যাচ্ছে। আমি হাসছি,, কেননা নিল রঙ আমার অনেক প্রিয়। : কলেজ থেকে পিকনিকে যাওয়ার একটা ডেট পড়লো। আমি খুব এক্সাইটেড ছিলাম। জান্নাত’ও আমাকে বললো-‘হ্যাঁ, যাও। একটু ঘুরে আসা উচিত। সারাদিন তো কত ব্যস্ত থাকো পড়াশোনা নিয়ে। একদিন সবার সাথে না হয় একটু ঘুরে আসো। মনটাও ফ্রেশ হবে” আমি মন খারাপ করে বললাম-তোমাকে ছাড়া যেতে একদম ভালো লাগছে না। ও মুচকি হেসে বললো-‘আর তো কয়েকটা বছর। তারপরই তো আমরা সারাজীবন একসাথে থাকবো।” যাওয়ার দিন আমার প্রচন্ড মাইগ্রেনের ব্যাথা উঠলো। আমি উঠতে পারছিলাম না ব্যাথায়। যতক্ষণে কিছুটা স্বস্তি ফিল করলাম ততক্ষণে পিকনিক বাস মিস করে ফেলেছিলাম। খুব মন খারাপ হলো। তৎক্ষণাৎ ভাবলাম, থাক ও আছে তো। ওর বাসায় চলে যাই। ওকে নিয়ে সারাটা দিন থাকি। জান্নাতের’র বাসায় গিয়ে ওর রুমের দরজা আমাকে নক করতে হয় নি। জানালা দিয়ে যখন ওকে ডাকতে যাবো তখন এক মুহর্তের জন্য রুমের ভেতরের দৃশ্য দেখে আমি পাথর হয়ে গেলাম। আমার জান্নাত তো এটা? হ্যাঁ, আমার জান্নাত অন্য একটা ছেলেকে জড়িয়ে ধরে পাগলের মতো ঘন চুম্বনে নিজেদের আবদ্ধ করে রেখেছে।ছেলেটা জান্নাতকে মনে হচ্ছে হিংস্র জন্তুর মত খাব্লে খাবলে খাচ্ছে।আর জান্নাত.. জান্নাতের হাত ছেলেটার পিঠ খামচে ধরে আছে -উফফ, আমি আর এ দৃশ্যটা সহ্য করতে পারছি না। টলতে টলতে কোনোমতে বাসায় আসলাম। কি আশ্চর্য! মাথা ব্যাথাটা যেনো নিমেষে উধাও হয়ে গেলো। : আমি শান্ত চোখে জান্নাতের’র দিকে তাকালাম। তীব্র মাংস পোড়া গন্ধ বের হচ্ছে। হাতের রগ পুড়ে কালশিটে হয়ে গেছে। হাড়ের নরম মাংস উঁকি দিচ্ছে। যাক…পুড়ে যাক। ওর এ দু’হাতে ও আমার দু’হাত ছুঁয়েছিলো। আমার স্পর্শটা মুছে দিতে হবে তো। একটা আয়না এনে ওর সামনে রাখলাম। কাঁটা চামচ দিয়ে ওর ডান চোখটা খুব সযতে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তুলে ফেললাম। আয়নাটা রাখলাম যাতে আরেক চোখ দিয়ে ও এই বীভৎস দৃশ্যটা দেখতে পারে। ও হিস্টরিয়া রোগীর মতো কাঁপতে লাগলো। আমি ওর মুখ থেকে স্কচটেপ টা সরিয়ে দিলাম। জান্নাত পাগলের মতো বলতে লাগলো-‘আমাকে মেরে ফেলো শান্ত। আমাকে মেরে ফেলো। এভাবে কষ্ট না দিয়ে আমাকে মেরে ফেলো।” কি আশ্চর্য! এই মেয়েটার সাথে না আমার সারাজীবন পাশাপাশি চলার কথা ছিলো। একটা পৃথিবী গড়ার কথা ছিলো। আর, এ মেয়েটাই এখন আমার কাছে মৃত্যু চাচ্ছে। . আমি ও’র চিবুকে হাত ছোঁয়ালাম। গলগল করে রক্ত পড়ছে। সেই রক্তে আমার হাত ভিজে চপচপ হয়ে গেছে। একটা আঙ্গুল আলতো করে ওর গালে ছুঁইয়ে বললাম-‘এত তাড়া কিসের, ডার্লিং। একটু শান্ত হও’ একটা ফল কাটার ধারালো ছুরি আনলাম। ওর আঙ্গুলগুলোর ফাঁকে ফাঁকে কয়েকটা নিখুঁত পোচ দিলাম। ওর এই আঙ্গুলগুলোর ফাঁকে আমার আঙ্গুল ছিলো। মাঝে অন্য কারো স্পর্শ কি করে থাকতে পারে। প্লাস দিয়ে আমি ওর নখগুলো উপড়ে ফেলতে ফেলতে বললাম- ‘মনে আছে পাগলি, এই হাত, এই আঙ্গুল আমাকে কত শান্তনা দিতো। কত ভরসা দিতো। মনে আছে, মনে আছে তোমার? বলো না…. ছলনাময়ীরা সহজে জ্ঞান হারায় না।জান্নাত তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। ওরা চিৎকার ও দেয় না। এই যে আমি আমার ও’র হাতের আঙ্গুলগুলো এত যত্নে কুঁচিকুঁচি করে কেটে ফেললাম, হাতের কবজি টা আলাদা করে ফেললাম কই আমার পড়িটা তো একটুর জন্যও চেঁচায়নি। কত্ত ভালোবাসে আমায়, তাই না?। ওহ, শীট! চেঁচাবে কি করে, আমি যে ওর মুখে কাপড় ঠেসে গুঁজে রেখেছি। কি বোকা আমি! : বিকেলে আমি জান্নাত’কে বাসায় আসতে বললাম। ও অবাক হয়ে বললো-‘শান্ত,তুমি পিকনিকে যাও নি?’ আমি মুচকি হেসে বললাম-‘মাথাব্যথা করছিলো, মিস করে ফেলেছি’ ও ব্যস্ত কণ্ঠে বললো-বাসায় তুমি? আমি এক্ষুণি আসছি। আর, আগে বলো নি কেন। তাহলে তাড়াতাড়ি চলে আসতাম। কত চিন্তা হয় তোমার জন্য বুঝো তুমি?’ ইশ! কুত্তিটা কি নিঁখুত অভিনয়ই না করে। আচ্ছা, আমি কেনো পারলাম না? আমি কেনো নিজের সবটা দিয়ে ওকে ভালোবাসতে গেলাম। আমি কেনো আমার আত্মার সাথে ওকে মিশিয়ে ফেললাম। হা হা,,,,, what a fool I am! aren’t I? : আমি ওর চুল খামচে ধরে বললাম-কফিটা কেমন ছিলো? ওকে আমি কড়া ডোজের ওষুধ দিয়ে কফি দিয়েছিলাম। ব্যস…খেল খতম। তারপর, খুব যত্ন করে ওকে বেঁধে ফেললাম আমি। ওকে হুট করে মারলে চলবে না। তোমাকে বাঁচতে হবে ডার্লিং, you have to sarvive……..for me,, জান্নাতের’র চোখ বুজে আসছে, আমার ভালোবাসা বুজে যাচ্ছে নাহ। আর কষ্ট দেওয়া যাবে না মেয়েটাকে, অনেক হয়েছে। আমি ওর মাথার খুলিটা গোল করে কাটলাম। স্ক্যাল্পটা সরিয়ে মগজ বের করে আনলাম, ওর শরীর থর থর করে কাঁপতে কাঁপতে নিথর হয়ে গেলো। শ্বাস নিচ্ছে না, নড়চে না আহারে বেচারা!! ওর মগজটা হাতে নিলাম, একদম ছোট একটা মগজ,,। এত স্বল্প মগজে ও কি করে এত ছেলেকে কাবু করে!? নাহ আমার জানুটা’র বুদ্ধি আছে বলতে হবে।। আমি খুব শান্তভাবে পুলিশকে ফোন দিলাম। ঘটনা সব খুলে বললাম। পুলিশ জানালো তারা আসছে। আমাকে পালাতে বারন করা হয়েছে। আমি ততক্ষনে ফ্রেশ হতে ডুকলাম ওয়াশরুমে। হাতে ঘিলুটা নিয়ে ফরমালড্রিহাইড্রেটের নিল দ্রবনে রাখলাম যত্ন করে। হলদেটে ঘিলুটা নিল দ্রবনে মিশে আস্তে আস্তে গাড় নিল রঙ ধারন করেছে,,,, আমার ভিসন হাসি পাচ্ছে,,, আর ভাবছি,,,, জান্নাত তুমি এভাবেই বেচে থাকবে,,, পঁঁচবে না গলবে না,,,, তোমার চিন্তাগুলিকে মরে যেতে দেই কি করে। ঝরনা ছেরে দিলাম,,,,,, ইশ!! আমার শরীরটা একজন বিশ্বাসঘাতকিনীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে,,,,, #সাইকো
By kolpobazz
Wednesday, April 3, 2019
#ক্রাশ কাকে বলে ? কত প্রকার ও কি কি? এর উপকারিতা ও অপকারিতা সংক্ষিপ্ত ভাবে আলোচনা করা হলো:- #ক্রাশ বর্তমানে একটি অন্যতম খাদ্য। যা ছেলে ও মেয়ে ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় খায়। মূলত ক্রাশ বলতে মুর্হুতের ভাল লাগাকে বোঝায়। এটা ৩ প্রকার, যথা:- ১. #নরমালি_ক্রাশ - এটা সাধারনত আমরা প্রতিদিনই খাই। যেমন, বাসে বা অটোতে বা অন্য কোথাও চলাচলের সময় হঠাৎ কাউকে একমুহুর্তের জন্য দেখে ক্রাশ। ২. #মিডিয়াম_ক্রাশ - এ ক্রাশ খেলে তার বিষয়ে জানতে ইচ্ছা করে, কিন্তু কয়দিন পর মনে থাকেনা তারকথা। ৩. #হার্ডলি ক্রাশ- এ ক্রাশ খেলে আপনার ভিতরে প্রবল আবেগ কাজ করবে। আপনি তাকে জীবনসঙ্গী করার চেষ্টা করবেন। # উপকারিতা - ক্রাশ খেলে মনের ভিতরে আলাদা ফিলিংস হয়। কিছুদিন ভাত খাবার প্রয়োজন পড়ে না। তাই ভাতের ওপর কম প্রেশার পড়ে। # অপকারিতা - মাত্রাতিরিক্ত ক্রাশ আপনার রাতের ঘুম হারামের পক্ষে যথেষ্ট!!
By kolpobazz
Tuesday, April 2, 2019
তা ভাই আপনি আমার সব পোস্টে প্রেম প্রেম কমেন্ট করেন ক্যন।😡😡 -কি করব বলেন আপনার ১৮+ পোস্ট দেখে আমার ফোন টা কেন যানি হট হয়ে যায়,ওর মাথা ঠিক থাকে না।😂😂 আর জানেনই ত হট হয়ে গেলে কোন কিছুই সামলানো সম্ভব না। হ বুঝছি।😠😠 -কি বুঝলেন। তুই আর তোর ফোন দুইটাই এক। তর টাইম হইছে,,নে সালা ব্লক খা।#সাইকো নাহ সত্যের ভাত নাই।বুঝছি অহন এইডা।
By kolpobazz
এইটা কিন্ত রোমান্টিক গল্প,,, পড়তে ভুলবেন না,,,,😂😂 #সাইকো --- এই যে শুনুন? --- জ্বী আমাকে বলছেন? --- প্রতিদিন তো আপনিই ফলো করেন আমাকে, তাহলে নিশ্চয়ই আপনাকেই বলছি। (আমি একটু অবাক হয়ে আমতা আমতা করতে লাগলাম) --- না মানে ইয়ে, আসলে.... --- থাক আর ইয়ে মানে করা লাগবে না। ছাতাটা ধরুন। --- মানে? --- মানে বুঝেন না, বৃষ্টি পড়ছে ছাতাটা ধরুন, দেখছেন না আমি ছাতা নিয়ে আসেনি? (আমি বুঝতেই পারছি না, মেয়েটা সব কীভাবে বুঝে গেলো) --- এতো বড় ছাতা, তাও আবার ফুটো? --- আসলে অনেকদিন ব্যবহার করা হয় নাতো তাই। --- হুমম, তা বৃষ্টির দিনেও আমাকে ফলো করতে আসতে হলো কেনো? আজকে একটু বিশ্রাম নিতে পারতেন। --- না মানে, তোমাকে মানে আপনাকে একদিন না দেখলে আমার মনের মধ্যে শূন্যতা বিরাজ করে, তাই....? --- থাক হইছে হইছে, আর পাম দিতে হবে না, সব ছেলেদের চেনা আছে। --- আমি সবার মত না। --- সবাই একই কথা বলে, আমি সবার মত না। আর হ্যা আপনাকে আর যাওয়া লাগবে না, সামনেই আমার বাসা, এতটুকু আমি একাই যাবো। --- জ্বী ঠিক আছে। --- আর শুনুন আগামীকাল থেকে ছোট ছাতা নিয়ে আসবেন। --- মানে? --- মানে বোঝা লাগবে না। যেটা বলছি সেটা করবেন। কথাটা বলেই মেয়েটা চলে গেলো। এতক্ষন তার সাথে একই ছাতার মধ্যে হাটছিলাম। আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না যাকে এতদিন ফলো করছি সে হঠাৎ-ই আমাকে এভাবে অবাক করে দিবে। যখন হাটছিলাম তখন তার শরীর থেকে মাতাল করা ঘ্রান বের হচ্ছিলো। যেটা হাজার পারফিউম কেও হার মানায়। আমি শোভন; বাবা-মার বড় ছেলে আর মায়ের আদরের লক্ষী ছেলে। বাবার বিরাট বড় ব্যবসা আছে তাই আর নিজের কোন চিন্তা নেই। তবে এলাকায় মাঝে মধ্যে দাদাগিরি করি, সেই সুবাদে কিছুটা পরিচিতিও আছে। আর ঠিক একদিন.... --- দোস্ত সিগারেটটা ধরিয়ে দে তো? --- এই নে টানতে থাক। --- কিরে আজকে তো কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। সব মেয়েরা কোন পথ দিয়ে যাচ্ছে এখন। --- আমাদের ভয়তে মনে হয় অন্য পথ ধরেছে। (ঠিক এমন সময় একটা ছেলে এসে বলল) --- ভাইয়ারা আপনারা এখানে দাড়িয়ে ডিস্ট্রার্ব করেন এটা কী ঠিক বলেন। --- এই কে রে তুই আমাদের জ্ঞান দিতে আসছিস? তারপরেই আমরা সবাই মিলে ছেলেটা কে মারতে লাগলাম, কিন্তু এমন সময় পাশ দিয়ে একটা মেয়ে গেলো, সেখান থেকেই দাদাগিরি করার সময় পাই না, ফলো করতে করতেই সময় শেষ। পরের দিন.... --- ছাতাটা মনে হচ্ছে নতুন কিনেছেন? (সুষমা) --- না আসলে, হুমম। (আমি) --- তা আমাকে ফলো করেন কেনো? --- সত্যি বলতে ভালবাসি। --- কতজন কে ভালবাসেন? --- মানে,আমি শুধু তোমাকেই মানে আপনাকেই বাসি। --- তো যারা এলাকায় দাদাগিরি করে, মেয়েদের বিরক্ত করে তেমন ছেলে আমার পছন্দ না। --- আমি সব কমিয়ে দিয়েছি। ঐসব আর তেমন করি না। --- কমালে হবে না, একদম ছেড়ে দিতে হবে। --- আচ্ছা ছেড়ে দিবো, তোমার জন্য মানে আপনার জন্য সব ছেড়ে দিবো। --- ঠিক আছে তুমি করে বলতে পারেন। কিন্তু আপনার বন্ধুরা তো করে, তাদের নিষেধ করে দিবেন। --- হুমম, মাথা নেড়ে হ্যা সূচক জবাব দিলাম। কথাটা বলেই সুষমা আমার ছাতাটা নিয়ে চলে গেলো। এতক্ষন লেকের পাশেই দুজনে এক ছাতার মধ্যে দাড়িয়ে কথা বলছিলাম। আমার নিজেরই বিশ্বাস হয় না আমি দাদাগিরি করেছি, কারন এই মেয়ের সামনে আসলেই কেমন নিজেকে বিড়াল মনে হয়। তারপর থেকে বন্ধুদেরও বলে দিলাম যাতে এমন দাদাগিরি না করে। আমার এমন পরিবর্তন দেখে আমার বাবা-মাও আমাকে চিনতে পারে না। আর বন্ধুদের কথা নাই বা বললাম। সবাই কী যে ভাবে আমাকে বুঝতেছি না। সুষমাকে প্রথম দেখায় ভাল লেগে গেছিলো, তারপর ভাল লাগা থেকেই ভালবাসা। --- কী ব্যাপার বলে ছিলাম না তাড়াতাড়ি আসতে? (সুষমা) --- আসলে রাস্তায় অনেক জ্যাম ছিলো তাই....? (আমি) --- হইছে হইছে আর বলা লাগবে না। --- সুষমা তুমি আমাকে ভালবাসো? --- হঠাৎ এই প্রশ্ন। --- না আসলে আমি তো বলেছি কিন্তু তুমি তো মুখ ফুটে কিছু বলোনি তাই শুনতে চাচ্ছিলাম আর কী। --- সময় হলেই সব জানতে পারবেন। --- আমাকে তুমি করে বলতে পারো না। --- না পারি না। --- তাহলে আমিও আপনি করে বলবো। --- একদম খুন করে ফেলবো। --- কেনো? --- আমি আপনি করেই বলবো, আর আপনি আমাকে তুমি করেই। (সুষমার কথার কোন আগা মাথায় বুঝতেছি না। ঠিক ভালবাসে কিনা সেটাও বুঝতে পারছি না) --- এই যে কী ভাবছেন। --- নাহ কিছু না। --- শোনেন আগামীকাল থেকে আপনার বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করবেন। --- আমি ব্যবসা....? --- জ্বী আপনিই ব্যবসা, না হলে আর দেখা করব না। --- না,না,না....তোমার কথাই হবে। সুষমা চলে গেলো, অবশ্য আজ বৃষ্টি নেই। কিন্তু প্রতিদিন কোন একটা কাজ ধরিয়ে দিয়ে যাবে।কিভাবে যে বলব বাবাকে, কতদিন ধরে বলেছে তার ব্যবসা দেখাশোনা করতে, কিন্তু সেই সব কথা তখন কানেই তুলিনি, কিন্তু আজ। বাড়ীতে গিয়েই.... --- বাবা আমার একটা কথা ছিলো? --- হ্যা বল। --- আমি তোমার ব্যবসা দেখাশোনা করতে রাজি। কথাটা বাবা শোনার পরেই কেমন চোঁখ করে দেখছে। মনে হচ্ছে চোঁখ দুটো বেড়িয়ে আসবে। --- তা হঠাৎ এমন মনোভাব কিভাবে হলো জানতে পারি। --- এমনিই তো, ভেবে দেখলাম আর কত ঘুরে বেড়াবো, তাই এই সিদ্ধান্ত নিলাম। বাবা আর কিছু বলল না। এরপর থেকেই বাবার ব্যবসা দেখছি এখন। কী আর করব সুষমার ভালবাসা পাওয়ার জন্য সব কিছু করতে পারি।কিন্তু সুষমা আমাকে ভালবাসে তো, সেটাই বুঝতে পারছি না। সুষমার কথা ভাবতে ভাবতেই সুষমার ফোন.... --- এই যে শোভন সাহেব আমার কথা বুঝি আর মনে নেই আপনার। --- কী যে বলো, তোমার কথায় ভাবছিলাম। --- আমার কথা ভাবলে ঠিকই খোঁজ নিতে। --- আসলে ব্যবসার কাজের অনেক চাপ তাই সুযোগ করে উঠতে পারিনি। --- হুম বুঝি তো,আর কিছুদিন পর তো ঠিকই ভুলে যাবেন। --- কখনোই না, যাকে ভালবাসি তাকে এতো সহজে ভুলি কী করে। --- জ্বী হইছে, আর শোনেন ঠিকমত নামাজ পড়বেন। --- আচ্ছা পড়বো তো। --- আর আপনি ভাল আছেন তো? --- হুমম, তুমি? (আমি সুষমার নিঃশ্বাসটা অনুভব করতে পারছি, অনুভুতিটা বোঝানোর মত না) --- হুমম, এখন রাখছি আম্মু ডাকতেছে। আর আগামীকাল বিকাল পাঁচটায় দেখা করবেন কথা আছে। আর আসার সময় পাঞ্জাবি পড়ে আসবেন। কথাটা বলেই সুষমা ফোন কেটে দিলো। পাগলী একটা, এই পাগলীটা এসেই আমার জীবনটা কেমন জানি বদলে দিলো। সুষমা আমার জীবনে না আসলে আমার জীবনটা যে কেমন হতো, হয়তো অন্ধকারে চলে যেতো, হয়তো না। সুষমা আর আমি পাশাপাশি একই ছাতার মধ্যে বসে আছি। একটা সবুজ রঙ্গের পাঞ্জাবি পড়ে আসছি। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। আর সুষমা স্বাভাবিক ভাবেই বসে আছে। দুজনেই চুপ এখন, কিন্তু কথাটা আমি শুরু করলাম.... --- সুষমা তুমি আমাকে ভালবাসো? --- জানি না। --- সত্যি জানো না? --- তাও জানি না। চুপ করে বৃষ্টি দেখেন তো। --- সেটা তো দেখবো। কিন্তু কেনো ডেকেছো জানতে পারি? --- তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছা করছিলো তাই ডেকেছি। (আমি ভাবছি এই মেয়েটাকে ঠিক বুঝতে পারছি না, সত্যি আমাকে ভালবাসে তো) --- বলো না ভালবাসো কিনা? --- বললাম তো জানি না। আমি ছাতার মধ্য থেকে বের হয়ে দাড়িয়ে পড়লাম, চলে যাওয়ার উপক্রম, কিন্তু কেউ আমার হাতের একটা আঙ্গুল ধরে বলতে লাগল.... ---- বাসা থেকে ছেলে দেখছে। কী করব আমি? --- কী, তুমি একবার বলো আমাকে ভালবাসো কিনা, বাকিটা আমি দেখছি। (সুষমা ছাতার মধ্যে দাড়িয়ে, আর আমি ভিজছি ছাতার বাইরে দাড়িয়ে) --- গাধারাম সেই একই কথা আবার, তোমাকে ভাল না বাসলে কেনো তোমার সাথে দেখা করব? কেনো তোমাকে শাসন করব? কেনো তোমাকে আমার মনের মত করে গুছিয়ে নিলাম। এসব বোঝনা তুমি, ভালবাসি তাই করেছি, সব কী মুখে বলতে হয়? হ্যা ভালবাসি অনেক ভালবাসি। (কথাগুলো একেবারে বললো সুষমা) আমি কিছু বললাম না,শুধু ছাতাটা উড়িয়ে দিয়ে চেচিয়ে বললাম, আমিও অনেক ভালবাসি। আগামীকাল বিয়ের প্রস্তাব যাবে তোমাদের বাড়ী। --- কীহহ, যদি বাসা থেকে না মানে? --- দাদাগিরি দেখিয়ে তুলে নিয়ে আসবো তাহলে। সুষমা আর কিছু বলল না, আমি আর সুষমা দুজনে দুজনার হাত ধরে বৃষ্টিতে ভিজছি, আর বৃষ্টিটা কে উপভোগ করছি,, এর মদ্ধেই হঠাৎ করে বিকট এক শব্দ হল। শব্দের তীব্রতায় কখন বেহুস হয়ে গেছি মনে নেই। তবে যখন হুস ফিরে পেলাম তখন সুষমার কথা মনে হতেই দেখি খাম্বার মত দারিয়ে আছে মেয়েটা। নড়ছেও না, চড়ছে ও না। ভয়ে ভয়ে গায়ে হাত দিতেই,,, ছাইয়ে পরিনত হল সুষমা। সেদিন থেকে আমি আর ভয়ে বৃস্টিতে ভিজি না। বৃষ্টি হলেই ঘরে লেপ মুরি দিয়ে ঘুমিয়ে থাকি। বাইরেও বের হই না। কেননা আমার জীবন আমার কাছে অনেক প্রিয়। হুদাই ঠাডা পরে মরতে আমি চাইনা।☺ #সাইকো
By kolpobazz
arrow_backবৃষ্টি ভেজা ভালোবাসা arrow_drop_downsettingsmore_vert close বৃষ্টি ভেজা ভালোবাসা বৃষ্টি ভেজা ভালোবাসা Rikto Mahmud Shovon person_addঅনুসরণ রেটিং শেয়ার করুন বৃষ্টি ভেজা ভালোবাসা --- এই যে শুনুন? --- জ্বী আমাকে বলছেন? --- প্রতিদিন তো আপনিই ফলো করেন আমাকে, তাহলে নিশ্চয়ই আপনাকেই বলছি। (আমি একটু অবাক হয়ে আমতা আমতা করতে লাগলাম) --- না মানে ইয়ে, আসলে.... --- থাক আর ইয়ে মানে করা লাগবে না। ছাতাটা ধরুন। --- মানে? --- মানে বুঝেন না, বৃষ্টি পড়ছে ছাতাটা ধরুন, দেখছেন না আমি ছাতা নিয়ে আসেনি? (আমি বুঝতেই পারছি না, মেয়েটা সব কীভাবে বুঝে গেলো) --- এতো বড় ছাতা, তাও আবার ফুটো? --- আসলে অনেকদিন ব্যবহার করা হয় নাতো তাই। --- হুমম, তা বৃষ্টির দিনেও আমাকে ফলো করতে আসতে হলো কেনো? আজকে একটু বিশ্রাম নিতে পারতেন। --- না মানে, তোমাকে মানে আপনাকে একদিন না দেখলে আমার মনের মধ্যে শূন্যতা বিরাজ করে, তাই....? --- থাক হইছে হইছে, আর পাম দিতে হবে না, সব ছেলেদের চেনা আছে। --- আমি সবার মত না। --- সবাই একই কথা বলে, আমি সবার মত না। আর হ্যা আপনাকে আর যাওয়া লাগবে না, সামনেই আমার বাসা, এতটুকু আমি একাই যাবো। --- জ্বী ঠিক আছে। --- আর শুনুন আগামীকাল থেকে ছোট ছাতা নিয়ে আসবেন। --- মানে? --- মানে বোঝা লাগবে না। যেটা বলছি সেটা করবেন। কথাটা বলেই সুষমা চলে গেলো। এতক্ষন সুষমার সাথে একই ছাতার মধ্যে হাটছিলাম। আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না যাকে এতদিন ফলো করছি সে হঠাৎ-ই আমাকে এভাবে অবাক করে দিবে। যখন হাটছিলাম তখন সুষমার শরীর থেকে মাতাল করা ঘ্রান বের হচ্ছিলো। যেটা হাজার পারফিউম কেউ হার মানাই। আর আমি শোভন; বাবা-মার বড় ছেলে আর মায়ের আদরের লক্ষী ছেলে। বাবার বিরাট বড় ব্যবসা আছে তাই আর নিজের কোন চিন্তা নেই। তবে এলাকায় মাঝে মধ্যে দাদাগিরি করি, সেই সুবাদে কিছুটা পরিচিতিও আছে। আর ঠিক একদিন.... --- দোস্ত সিগারেটটা ধরিয়ে দে তো? --- এই নে টানতে থাক। --- কিরে আজকে তো কাউকে দেখতে পাচ্ছি না। সব মেয়েরা কোন পথ দিয়ে যাচ্ছে এখন। --- আমাদের ভয়তে মনে হয় অন্য পথ ধরেছে। (ঠিক এমন সময় একটা ছেলে এসে বলল) --- ভাইয়ারা আপনারা এখানে দাড়িয়ে ডিস্ট্রার্ব করেন এটা কী ঠিক বলেন। --- এই কে রে তুই আমাদের জ্ঞান দিতে আসছিস? তারপরেই আমরা সবাই মিলে ছেলেটা কে মারতে লাগলাম, কিন্তু এমন সময় পাশ দিয়ে একটা মেয়ে গেলো, সেখান থেকেই দাদাগিরি করার সময় পাই না, ফলো করতে করতেই সময় শেষ। পরের দিন.... --- ছাতাটা মনে হচ্ছে নতুন কিনেছেন? (সুষমা) --- না আসলে, হুমম। (আমি) --- তা আমাকে ফলো করেন কেনো? --- সত্যি বলতে ভালবাসি। --- কতজন কে ভালবাসেন? --- মানে,আমি শুধু তোমাকেই মানে আপনাকেই বাসি। --- তো যারা এলাকায় দাদাগিরি করে, মেয়েদের বিরক্ত করে তেমন ছেলে আমার পছন্দ না। --- আমি সব কমিয়ে দিয়েছি। ঐসব আর তেমন করি না। --- কমালে হবে না, একদম ছেড়ে দিতে হবে। --- আচ্ছা ছেড়ে দিবো, তোমার জন্য মানে আপনার জন্য সব ছেড়ে দিবো। --- ঠিক আছে তুমি করে বলতে পারেন। কিন্তু আপনার বন্ধুরা তো করে, তাদের নিষেধ করে দিবেন। --- হুমম, মাথা নেড়ে হ্যা সূচক জবাব দিলাম। কথাটা বলেই সুষমা আমার ছাতাটা নিয়ে চলে গেলো। এতক্ষন লেকের পাশেই দুজনে এক ছাতার মধ্যে দাড়িয়ে কথা বলছিলাম। আমার নিজেরই বিশ্বাস হয় না আমি দাদাগিরি করেছি, কারন এই মেয়ের সামনে আসলেই কেমন নিজেকে বিড়াল মনে হয়। তারপর থেকে বন্ধুদেরও বলে দিলাম যাতে এমন দাদাগিরি না করে। আমার এমন পরিবর্তন দেখে আমার বাবা-মাও আমাকে চিনতে পারে না। আর বন্ধুদের কথা নাই বা বললাম। সবাই কী যে ভাবে আমাকে বুঝতেছি না। সুষমাকে প্রথম দেখায় ভাল লেগে গেছিলো, তারপর ভাল লাগা থেকেই ভালবাসা। --- কী ব্যাপার বলে ছিলাম না তাড়াতাড়ি আসতে? (সুষমা) --- আসলে রাস্তায় অনেক জ্যাম ছিলো তাই....? (আমি) --- হইছে হইছে আর বলা লাগবে না। --- সুষমা তুমি আমাকে ভালবাসো? --- হঠাৎ এই প্রশ্ন। --- না আসলে আমি তো বলেছি কিন্তু তুমি তো মুখ ফুটে কিছু বলোনি তাই শুনতে চাচ্ছিলাম আর কী। --- সময় হলেই সব জানতে পারবেন। --- আমাকে তুমি করে বলতে পারো না। --- না পারি না। --- তাহলে আমিও আপনি করে বলবো। --- একদম খুন করে ফেলবো। --- কেনো? --- আমি আপনি করেই বলবো, আর আপনি আমাকে তুমি করেই। (সুষমার কথার কোন আগা মাথায় বুঝতেছি না। ঠিক ভালবাসে কিনা সেটাও বুঝতে পারছি না) --- এই যে কী ভাবছেন। --- নাহ কিছু না। --- শোনেন আগামীকাল থেকে আপনার বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করবেন। --- আমি ব্যবসা....? --- জ্বী আপনিই ব্যবসা, না হলে আর দেখা করব না। --- না,না,না....তোমার কথাই হবে। সুষমা চলে গেলো, অবশ্য আজ বৃষ্টি নেই। কিন্তু প্রতিদিন কোন একটা কাজ ধরিয়ে দিয়ে যাবে।কিভাবে যে বলব বাবাকে, কতদিন ধরে বলেছে তার ব্যবসা দেখাশোনা করতে, কিন্তু সেই সব কথা তখন কানেই তুলিনি, কিন্তু আজ। বাড়ীতে গিয়েই.... --- বাবা আমার একটা কথা ছিলো? --- হ্যা বল। --- আমি তোমার ব্যবসা দেখাশোনা করতে রাজি। কথাটা বাবা শোনার পরেই কেমন চোঁখ করে দেখছে। মনে হচ্ছে চোঁখ দুটো বেড়িয়ে আসবে। --- তা হঠাৎ এমন মনোভাব কিভাবে হলো জানতে পারি। --- এমনিই তো, ভেবে দেখলাম আর কত ঘুরে বেড়াবো, তাই এই সিদ্ধান্ত নিলাম। বাবা আর কিছু বলল না। এরপর থেকেই বাবার ব্যবসা দেখছি এখন। কী আর করব সুষমার ভালবাসা পাওয়ার জন্য সব কিছু করতে পারি।কিন্তু সুষমা আমাকে ভালবাসে তো, সেটাই বুঝতে পারছি না। সুষমার কথা ভাবতে ভাবতেই সুষমার ফোন.... --- এই যে শোভন সাহেব আমার কথা বুঝি আর মনে নেই আপনার। --- কী যে বলো, তোমার কথায় ভাবছিলাম। --- আমার কথা ভাবলে ঠিকই খোঁজ নিতে। --- আসলে ব্যবসার কাজের অনেক চাপ তাই সুযোগ করে উঠতে পারিনি। --- হুম বুঝি তো,আর কিছুদিন পর তো ঠিকই ভুলে যাবেন। --- কখনোই না, যাকে ভালবাসি তাকে এতো সহজে ভুলি কী করে। --- জ্বী হইছে, আর শোনেন ঠিকমত নামাজ পড়বেন। --- আচ্ছা পড়বো তো। --- আর আপনি ভাল আছেন তো? --- হুমম, তুমি? (আমি সুষমার নিঃশ্বাসটা অনুভব করতে পারছি, অনুভুতিটা বোঝানোর মত না) --- হুমম, এখন রাখছি আম্মু ডাকতেছে। আর আগামীকাল বিকাল পাঁচটাই দেখা করবেন কথা আছে। আর আসার সময় পাঞ্জাবি পড়ে আসবেন। কথাটা বলেই সুষমা ফোন কেটে দিলো। পাগলী একটা, এই পাগলীটা এসেই আমার জীবনটা কেমন জানি বদলে দিলো। সুষমা আমার জীবনে না আসলে আমার জীবনটা যে কেমন হতো, হয়তো অন্ধকারে চলে যেতো, হয়তো না। সুষমা আর আমি পাশাপাশি একই ছাতার মধ্যে বসে আছি। একটা সবুজ রঙ্গের পাঞ্জাবি পড়ে আসছি। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। আর সুষমা স্বাভাবিক ভাবেই বসে আছে। দুজনেই চুপ এখন, কিন্তু কথাটা আমি শুরু করলাম.... --- সুষমা তুমি আমাকে ভালবাসো? --- জানি না। --- সত্যি জানো না? --- তাও জানি না। চুপ করে বৃষ্টি দেখেন তো। --- সেটা তো দেখবো। কিন্তু কেনো ডেকেছো জানতে পারি? --- তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছা করছিলো তাই ডেকেছি। (আমি ভাবছি এই মেয়েটাকে ঠিক বুঝতে পারছি না, সত্যি আমাকে ভালবাসে তো) --- বলো না ভালবাসো কিনা? --- বললাম তো জানি না। আমি ছাতার মধ্য থেকে বের হয়ে দাড়িয়ে পড়লাম, চলে যাওয়ার উপক্রম, কিন্তু কেউ আমার হাতের একটা আঙ্গুল ধরে বলতে লাগল.... ---- বাসা থেকে ছেলে দেখছে। কী করব আমি? --- কী, তুমি একবার বলো আমাকে ভালবাসো কিনা, বাকিটা আমি দেখছি। (সুষমা ছাতার মধ্যে দাড়িয়ে, আর আমি ভিজছি ছাতার বাইরে দাড়িয়ে) --- গাধারাম সেই একই কথা আবার, তোমাকে ভাল না বাসলে কেনো তোমার সাথে দেখা করব? কেনো তোমাকে শাসন করব? কেনো তোমাকে আমার মনের মত করে গুছিয়ে নিলাম। এসব বোঝনা তুমি, ভালবাসি তাই করেছি, সব কী মুখে বলতে হয়? হ্যা ভালবাসি অনেক ভালবাসি। (কথাগুলো একেবারে বললো সুষমা) আমি কিছু বললাম না,শুধু ছাতাটা উড়িয়ে দিয়ে চেচিয়ে বললাম, আমিও অনেক ভালবাসি। আগামীকাল বিয়ের প্রস্তাব যাবে তোমাদের বাড়ী। --- কীহহ, যদি বাসা থেকে না মানে? --- দাদাগিরি দেখিয়ে তুলে নিয়ে আসবো তাহলে। সুষমা আর কিছু বলল না, আমি আর সুষমা দুজনে দুজনার হাত ধরে বৃষ্টিতে ভিজছি, আর বৃষ্টিটা কে উপভোগ করছি। শুরু হলো আমাদের বৃষ্টি ভেজা ভালবাসার নতুন জীবন। (সমাপ্ত
By kolpobazz
Monday, April 1, 2019
নীল ডায়েরি থেকে > "লিস্ট" নংঃ ৩৯ রাতগল্প (পর্ব-০৩ ) নিতু কে একদিন দেখলাম নতুন কারো গাড়িতে একই ভাবে, একই সাজে, একই হাসি তে। সবই ঠিক আছে শুধু কয়েক মূহুর্তের ব্যবধানে পাশের মানুষটির আমূল পরিবর্তন। হয়তো নতুন কারো আঙ্গুলে আঙ্গুল গুঁজে তাকে বৃথা স্বপ্ন দেখানো। যে স্বপ্নে ভবিষ্যৎ বাড়ির ব্যালকনির ডিজাইন পর্যন্ত আঁকা হয়ে যাবে। এঘটনার পর দু একজন কাছের বন্ধু ছাড়া, কোনোরূপ গাঢ় সম্পর্কের পথ আর মাড়াই নি। দুঃখ ভুলে থাকতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ শুরু করলাম। এখনো মাঝেমাঝে হুটহাট বেরিয়ে পড়ি। একবার অবশ্য আত্নহননের চেষ্টাও করেছিলাম। পারিনি বলবো না; আসলে মরিনি। সৃষ্টিকর্তা মারেননি। “কিন্তু এ গল্প আমাকে শোনালেন কেন?” “শোনালাম এজন্য যে আপনারা প্রস্টিটিউট পেটের তাগিদে আর নিতুরা বিলাসিতায়। আর আমি নিতুকে সত্যিই ভালোবেসে ফেলেছিলাম, তবে অনেক কস্টে ধাক্কাটা কাটিয়েছি বলতে পারেন” জরি খিলখিলিয়ে হাসতে হাসতে বলে, “ওমা, তাইলে তো আপনে ভালোই ছ্যাঁক খাইসেন দেখতেসি” “মজা নিচ্ছেন বুঝি! আসলে ওটা একটা মোহ ছিলো, ছ্যাঁক তো খেয়েছি তার আরো পরে, আর সেটা দমাতেই তো এখানে আসা আমার, যখন শুনলাম…। “কি?” “না, থাক” “ক্যান, আপনের ছলনার গল্প শুনলাম, আপনের মায়ার গল্পটাও বলেন” আবির মৃদু হেসে বললো,”অবশ্যই বলবো, বলবো বলেই তো এসেছি। কিন্তু তার আগে তো আমাকে আপনার গল্পটাও শুনতে হবে তাইনা” “আমার গল্প?” “হুমমম, আপনার গল্প! আপনার এ জীবনে আসার গল্প, এপথে আসার গল্প, আপনার দুঃখ দুর্দশার গল্প। যারাই এপথে আসে তাদের প্রত্যেকেরই কারো না কারো কোনো না কোনো গল্প থাকে?” “সে বিরাট হিশটিরি, আপনে শুইনে কি করবেন?” “আহা বললাম তো, কিছু শুনবো এবং কিছু শোনাবো বলেই তো এসেছি, এত ইতস্ততঃ না করে বলে ফেলুন” “বড় দুঃখের কাহিনী সাব, সেই কথা মনে পড়লে আমার এখনো চোখের পানি আসে।” তারপর, খানিকক্ষন দুজনই বেশ নিশ্চুপ, নীরবতা ভেঙে জরিই প্রথম মুখ খোলে.. “ঠিক আছে, শুনতে যখন চাইলেন তখন বলি…চোখে জল নিয়ে জরি বলতে শুরু করলো, ইতিমধ্যেই গলায় স্বরও কেমন কাঁদো কাঁদো শোনাচ্ছে ..মনে হচ্ছে অনেককালের জমেথাকা কোনো কষ্টের মেঘ আজ বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ার অপেক্ষায় …… জরিদের গ্রামের নাম ছিলো ফুলপুর। ছ সাত বছর আগেও সে গ্রামের রাস্তাঘাটের চেহারা ছিলো কংকালসার শরীরে চিমসানো গালভাঙা বুড়োদের মতো। একেবারে বেহাল দশা যাকে বলে। মাইল কয়েক দূরে আধাপাকা বিদ্যালয়ই ছিলো ছ সাত গ্রামের শিক্ষা ব্যাবস্থার একমাত্র অবলম্বন। এ অঞ্চলে একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলতে ছিলো হাজী করিম উচ্চ বিদ্যালয়। পায়ে হাটা কাচা পথ পেরিয়েই বিদ্যালয়ে ছুটতে হতো জরিকে। মাঝেমধ্যে এর ওর কাছ থেকে চেয়েচিন্তে বই টই পড়ে টেনেটুনে যখন সপ্তম শ্রেণীতে তখন অকালেই জরির মা মরলো কলেরায়। যাতায়াত ব্যাবস্থা, অন্ধবিশ্বাসের মায়াজাল টপকানো কিংবা যে কোনো অযুহাতেই হোক ডাক্তার হসপিটালের ছিটেফোঁটাও দেখা মিললো না। ধোলু ফকিরের তাবিজ কবচ, অল্পবিস্তর ঝাড়ফুঁক-পানিপড়া কোনরুপ সদগতি করতে না পারায় জরির মাকে বেশ অকালেই দুনিয়া ছাড়তে হলো। জরিকে ছাড়তে হলো মায়ের ভালবাসা। আর জরির বাবা নয়া ভালবাসার খোঁজে ঘরে তুললো জরির নতুন মা কে। প্রথম দিকে নতুন মা মিষ্টি মিষ্টি কথা শোনালেও ধীরে ধীরে সে মিষ্টি তেতো তে পরিণত হতে বেশি সময় লাগেনি। মাস কয়েক যেতে না যেতেই সে বুঝতে শুরু করে নতুন মা আর নতুন নেই; বেশ পুরোনো হয়ে গেছে, সেটা তার সৎ মা। দিন গড়াতে লাগলো আর জগৎসংসারে একলা জরির চোখের সামনে সৎমায়ের আসল অবয়বটা ধীরে ধীরে ফুটে বেরুতে লাগলো। তারপরেও মানসিক কিংবা শারীরিক অত্যাচারে জর্জরিত হয়েও কোনরকমে খেয়ে পড়ে বেশ টিকেই ছিলো। কিন্তু সেই টিকে থাকার দৌড়ে আচমকাই একটা দূর্ঘটনায় যেন অকস্মাৎ ই মাথায় বজ্রপাত ঘটলো। বছরের মাঝামাঝি তখন সবে অষ্টম শ্রেণীতে। হাসিখুশি মেয়েটি আচমকা এমন কান্ড বাধিয়ে বসবে তা বোধহয় কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি। মাঝে মাঝেই ক্লাসের একটা ছেলে বেশ ইয়ার্কি করেই ক্ষ্যাপাতো, “তুই আমার বউ হবি”…ক্লাসেও অনেকেই তাকে ভাবী বলে ক্ষ্যাপাতো। একদিন মাঠে খেলতে খেলতে আচমকাই ছেলেটা তাকে বলে বসলো “তুই আমার বউ হবি”… আর অমনিই ও রেগে গিয়ে ছেলেটিকে সজোরে ধাক্কা মেরে বসে। তার হয়তো খেয়ালেই ছিলো না একদম ইঞ্চি কয়েক পাশেই গভীর পুকুর। ধাক্কায় তাল সামলাতে না পেরে ছেলেটি পুকুরে গিয়ে পড়ে। সাঁতার না জানা ছেলেটি গভীর জলে হাবুডুবু খেতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে আতংকিত মনে ছুটে সেখান থেকে পালিয়ে আসে সে। গ্রামের চেয়ারম্যান সাহেবের ছোটভাইয়ের ছেলে হওয়ায় জরির পরিবারের ভয় ও উৎকন্ঠাও তখন তুঙ্গে। সেটা পুরোদস্তুর মাত্রা ছাড়ায়, যখন রাতের বেলা রহিম মিয়া ফিসফিসিয়ে খবর দিলো, “বাঁচতে চাইলে মাইয়ারে লইয়া তাড়াতাড়ি পলাও, অবস্থা তো সুবিধার না, পোলা তো শুনলাম মইরা গেছে”… সে রাতেই ঘুটঘুটে অন্ধকারে জরির পরিবার গ্রাম ছাড়লো। দু দিন বাদে তাদের আশ্রয় হলো ঐ গ্রামেরই নিকটবর্তী মাইল কয়েক দূরে ভারতীয় সীমান্তবর্তী এক গ্রামে। এর মাসকয়েক পরেই জরির বাবা ভারতে চলে যায়। সেই যে গেলো আর ফিরে এলো না। দেখতে দেখতে একবছর পেরিয়ে গেলো কিন্তু জরির বাবার কোনো হদিশ মিললো না। এদিকে তার উপর নেমে এলো সৎমায়ের অত্যাচারের খড়গ। তবে সদ্য কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পা দেয়া মেয়েটির চোখ একদিন আনন্দে জ্বলজ্বল করে উঠলো। তবে তা আনন্দ ছিলো নাকি আশার ধোঁয়াশা তা বুঝতে বেশ দেরি হয়ে গিয়েছিল … “জরি মা, এদিকে আয়” “কি চাচা?” “আরে জব্বর খবর আছে” “কি?” “আমি যেইডা দেখছি, শুনলে তুই বিশ্বাস করতে পারবি না” “কি??” “আরে, তর বাপের সাথে আমার দেখা হইসিলো তো?? তর কথা জিগাইলো?” “সত্যি!!!” জরির চোখ জ্বলজ্বল করে ওঠে! হয়তো এতোদিনে তার কষ্ট ঘুচবে এই আশায়। “কোনহানে” “কোনহানে আবার? ভারতে” “ক্যামনে?” “তুই তো জানোস আমি মাঝেসাঝে ভারতে যাই, জিনিস-পাতি আনি, আমার আবার গরুর ব্যাবসাটাও দেখতে হয়। গত সপ্তায় গেলাম ভারতে, ওইখানে বাজারে এক লোকেরে দেইখা মনে হইলো ইনারে কই জানি দেখছি মনে হয়, এই বইলা কাছে যাইয়া জিজ্ঞেস করতেই.. আরে বদরুল ভাই না? বইলে আমারে বুকে জড়ায় ধরলো, আমি তো অবাক। যার কথা কইতাছি, এইটাই তর বাপ” “সত্যি” “সত্যি না তো, আমি বানায় কইতেছি নাকি” “তারপর” “তারপর আমার সেকি খাতির যত্ন, এমন যত্ন বিদেশে নিজের লোকরেই মাইনসে করে।” “আব্বা আমার কথা কিছু কইছে”, আনন্দমাখা জলে জরির চোখ চিকচিক করে ওঠে। “আরে কইছে মানে, সেই কথা বলতেই তো এইখানে আসলাম রে পাগলী” “কি কইসে?” “তোকে ঐখানে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিয়া যাইতে বলসে” জরি অবাক হয়ে প্রশ্ন করে, “আমি যাবো??” “নয়তো কি? তোর বাপে আসবে? তোর বাপের কাজ ফালাইয়া এক চুল নড়নের টাইম নাই ঐখানে” উত্তরে জরি নিশ্চুপ থাকে। “কি রে কথা কস না ক্যান, কি চিন্তা করোস” “কিন্তু আমি যাবো ক্যামনে, ঐদেশে যাইতে গেলে শুনসি পাসপোর্ট না কি জানি লাগে?” “আরে ধুর!! পাগলী কয় কি? কিচ্ছু লাগবে না, আরে তর বাপে গেছে না, আমি যাইনা, আরে.. আমারে দেখলে ঐ বিডিআর দেখছস?, খাড়াইয়া ছ্যালুট দেয়, সব হইতেছে গিয়া ট্যাকা, বুঝলি!” “আমি ট্যাকা পাবো কই?” “আমি আছি কি জন্যে, তর বাপেরে কথা দিসি। একবার যখন দায়িত্ব নিছি, তখন যাওয়ার সব দায় দায়িত্ব আমার।” “কবে যাইবেন?” “আমি যাবোনা, আমার অতি বিশ্বস্ত এক লোক আছে, সে নিয়ে যাবে! পরশু রাইত ১২টার পর রেডি থাকবি” “রাইতে?” “হ, রাইতে। আরে বিনা টাকায় চুরি কইরা যাবো, রাইতে নাতো কি দিনে নাকি? তবে বিডিআররে খালি চা পান বাবদ কিছু দিতে হবে। ঐটা আমি দিয়ে দিবোনে” গল্প বলার মাঝে আচমকাই কয়েকবার দরজার খটখট্ শব্দটায় সম্বিত ফেরে আবির ও জরির। তন্ময় হয়ে গল্প শুনছিলো আবির। জরির গল্প বলায় বাধা পড়ে। আবির খানিকটা চমকে ওঠে। “কে এলো দরজায় এতো রাতে” জরি বিরক্ত হয়ে উত্তর দেয়, “আমার এইখানে বদমাইশ মানুষ ছাড়া আর কে আসতে পারে” আবির মৃদু হেসে জিজ্ঞাসা করে,”আমাকেও কি আপনার বদমায়েশ মনে হয়” জরি মুচকি হেসে বলে,”এখন তক তো কোনো বদমাইশি দেখি নাই, হিহিহি দেখি কতক্ষন ভদ্রলোক থাকেন?” “আপনার হাসি টা না বেশ রহস্যময়” “তাই বুঝি?” “হুমমম!” এই কে রে দরজায়? এত রাইতে কে?, হাঁক ছাড়ে জরি। “আমি!”, দরকার ওপারে পুরুষের কন্ঠস্বর। “সকালের আগে দরজা খোলা যাবে না, নিষেধ আছে, রুমে লোক আছে” কিছুক্ষণ পরে আর কোনো শব্দ পাওয়া যায় না। হঠাৎই আবির বলে, “বেশ ডুবে গিয়েছিলাম আপনার জীবনের ভেতরে, আপনার কষ্টটা অনুভব করতে পারছি” “চা খাবেন!” “যদি বিষটিষ বা ঔষধ না মিশিয়ে দেন তবে চলতে পারে এক কাপ, অবশ্যই চিনি ছাড়া”
By kolpobazz
নীল ডায়েরি থেকে > "লিস্ট" নংঃ ৩৯ রাতগল্প (পর্ব-০২ ) নিতু কে একদিন দেখলাম নতুন কারো গাড়িতে একই ভাবে, একই সাজে, একই হাসি তে। সবই ঠিক আছে শুধু কয়েক মূহুর্তের ব্যবধানে পাশের মানুষটির আমূল পরিবর্তন। হয়তো নতুন কারো আঙ্গুলে আঙ্গুল গুঁজে তাকে বৃথা স্বপ্ন দেখানো। যে স্বপ্নে ভবিষ্যৎ বাড়ির ব্যালকনির ডিজাইন পর্যন্ত আঁকা হয়ে যাবে। এঘটনার পর দু একজন কাছের বন্ধু ছাড়া, কোনোরূপ গাঢ় সম্পর্কের পথ আর মাড়াই নি। দুঃখ ভুলে থাকতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ শুরু করলাম। এখনো মাঝেমাঝে হুটহাট বেরিয়ে পড়ি। একবার অবশ্য আত্নহননের চেষ্টাও করেছিলাম। পারিনি বলবো না; আসলে মরিনি। সৃষ্টিকর্তা মারেননি। “কিন্তু এ গল্প আমাকে শোনালেন কেন?” “শোনালাম এজন্য যে আপনারা প্রস্টিটিউট পেটের তাগিদে আর নিতুরা বিলাসিতায়। আর আমি নিতুকে সত্যিই ভালোবেসে ফেলেছিলাম, তবে অনেক কস্টে ধাক্কাটা কাটিয়েছি বলতে পারেন” জরি খিলখিলিয়ে হাসতে হাসতে বলে, “ওমা, তাইলে তো আপনে ভালোই ছ্যাঁক খাইসেন দেখতেসি” “মজা নিচ্ছেন বুঝি! আসলে ওটা একটা মোহ ছিলো, ছ্যাঁক তো খেয়েছি তার আরো পরে, আর সেটা দমাতেই তো এখানে আসা আমার, যখন শুনলাম…। “কি?” “না, থাক” “ক্যান, আপনের ছলনার গল্প শুনলাম, আপনের মায়ার গল্পটাও বলেন” আবির মৃদু হেসে বললো,”অবশ্যই বলবো, বলবো বলেই তো এসেছি। কিন্তু তার আগে তো আমাকে আপনার গল্পটাও শুনতে হবে তাইনা” “আমার গল্প?” “হুমমম, আপনার গল্প! আপনার এ জীবনে আসার গল্প, এপথে আসার গল্প, আপনার দুঃখ দুর্দশার গল্প। যারাই এপথে আসে তাদের প্রত্যেকেরই কারো না কারো কোনো না কোনো গল্প থাকে?” “সে বিরাট হিশটিরি, আপনে শুইনে কি করবেন?” “আহা বললাম তো, কিছু শুনবো এবং কিছু শোনাবো বলেই তো এসেছি, এত ইতস্ততঃ না করে বলে ফেলুন” “বড় দুঃখের কাহিনী সাব, সেই কথা মনে পড়লে আমার এখনো চোখের পানি আসে।” তারপর, খানিকক্ষন দুজনই বেশ নিশ্চুপ, নীরবতা ভেঙে জরিই প্রথম মুখ খোলে.. “ঠিক আছে, শুনতে যখন চাইলেন তখন বলি…চোখে জল নিয়ে জরি বলতে শুরু করলো, ইতিমধ্যেই গলায় স্বরও কেমন কাঁদো কাঁদো শোনাচ্ছে ..মনে হচ্ছে অনেককালের জমেথাকা কোনো কষ্টের মেঘ আজ বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ার অপেক্ষায় …… জরিদের গ্রামের নাম ছিলো ফুলপুর। ছ সাত বছর আগেও সে গ্রামের রাস্তাঘাটের চেহারা ছিলো কংকালসার শরীরে চিমসানো গালভাঙা বুড়োদের মতো। একেবারে বেহাল দশা যাকে বলে। মাইল কয়েক দূরে আধাপাকা বিদ্যালয়ই ছিলো ছ সাত গ্রামের শিক্ষা ব্যাবস্থার একমাত্র অবলম্বন। এ অঞ্চলে একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলতে ছিলো হাজী করিম উচ্চ বিদ্যালয়। পায়ে হাটা কাচা পথ পেরিয়েই বিদ্যালয়ে ছুটতে হতো জরিকে। মাঝেমধ্যে এর ওর কাছ থেকে চেয়েচিন্তে বই টই পড়ে টেনেটুনে যখন সপ্তম শ্রেণীতে তখন অকালেই জরির মা মরলো কলেরায়। যাতায়াত ব্যাবস্থা, অন্ধবিশ্বাসের মায়াজাল টপকানো কিংবা যে কোনো অযুহাতেই হোক ডাক্তার হসপিটালের ছিটেফোঁটাও দেখা মিললো না। ধোলু ফকিরের তাবিজ কবচ, অল্পবিস্তর ঝাড়ফুঁক-পানিপড়া কোনরুপ সদগতি করতে না পারায় জরির মাকে বেশ অকালেই দুনিয়া ছাড়তে হলো। জরিকে ছাড়তে হলো মায়ের ভালবাসা। আর জরির বাবা নয়া ভালবাসার খোঁজে ঘরে তুললো জরির নতুন মা কে। প্রথম দিকে নতুন মা মিষ্টি মিষ্টি কথা শোনালেও ধীরে ধীরে সে মিষ্টি তেতো তে পরিণত হতে বেশি সময় লাগেনি। মাস কয়েক যেতে না যেতেই সে বুঝতে শুরু করে নতুন মা আর নতুন নেই; বেশ পুরোনো হয়ে গেছে, সেটা তার সৎ মা। দিন গড়াতে লাগলো আর জগৎসংসারে একলা জরির চোখের সামনে সৎমায়ের আসল অবয়বটা ধীরে ধীরে ফুটে বেরুতে লাগলো। তারপরেও মানসিক কিংবা শারীরিক অত্যাচারে জর্জরিত হয়েও কোনরকমে খেয়ে পড়ে বেশ টিকেই ছিলো। কিন্তু সেই টিকে থাকার দৌড়ে আচমকাই একটা দূর্ঘটনায় যেন অকস্মাৎ ই মাথায় বজ্রপাত ঘটলো। বছরের মাঝামাঝি তখন সবে অষ্টম শ্রেণীতে। হাসিখুশি মেয়েটি আচমকা এমন কান্ড বাধিয়ে বসবে তা বোধহয় কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি। মাঝে মাঝেই ক্লাসের একটা ছেলে বেশ ইয়ার্কি করেই ক্ষ্যাপাতো, “তুই আমার বউ হবি”…ক্লাসেও অনেকেই তাকে ভাবী বলে ক্ষ্যাপাতো। একদিন মাঠে খেলতে খেলতে আচমকাই ছেলেটা তাকে বলে বসলো “তুই আমার বউ হবি”… আর অমনিই ও রেগে গিয়ে ছেলেটিকে সজোরে ধাক্কা মেরে বসে। তার হয়তো খেয়ালেই ছিলো না একদম ইঞ্চি কয়েক পাশেই গভীর পুকুর। ধাক্কায় তাল সামলাতে না পেরে ছেলেটি পুকুরে গিয়ে পড়ে। সাঁতার না জানা ছেলেটি গভীর জলে হাবুডুবু খেতে থাকে। অবস্থা বেগতিক দেখে আতংকিত মনে ছুটে সেখান থেকে পালিয়ে আসে সে। গ্রামের চেয়ারম্যান সাহেবের ছোটভাইয়ের ছেলে হওয়ায় জরির পরিবারের ভয় ও উৎকন্ঠাও তখন তুঙ্গে। সেটা পুরোদস্তুর মাত্রা ছাড়ায়, যখন রাতের বেলা রহিম মিয়া ফিসফিসিয়ে খবর দিলো, “বাঁচতে চাইলে মাইয়ারে লইয়া তাড়াতাড়ি পলাও, অবস্থা তো সুবিধার না, পোলা তো শুনলাম মইরা গেছে”… সে রাতেই ঘুটঘুটে অন্ধকারে জরির পরিবার গ্রাম ছাড়লো। দু দিন বাদে তাদের আশ্রয় হলো ঐ গ্রামেরই নিকটবর্তী মাইল কয়েক দূরে ভারতীয় সীমান্তবর্তী এক গ্রামে। এর মাসকয়েক পরেই জরির বাবা ভারতে চলে যায়। সেই যে গেলো আর ফিরে এলো না। দেখতে দেখতে একবছর পেরিয়ে গেলো কিন্তু জরির বাবার কোনো হদিশ মিললো না। এদিকে তার উপর নেমে এলো সৎমায়ের অত্যাচারের খড়গ। তবে সদ্য কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পা দেয়া মেয়েটির চোখ একদিন আনন্দে জ্বলজ্বল করে উঠলো। তবে তা আনন্দ ছিলো নাকি আশার ধোঁয়াশা তা বুঝতে বেশ দেরি হয়ে গিয়েছিল … “জরি মা, এদিকে আয়” “কি চাচা?” “আরে জব্বর খবর আছে” “কি?” “আমি যেইডা দেখছি, শুনলে তুই বিশ্বাস করতে পারবি না” “কি??” “আরে, তর বাপের সাথে আমার দেখা হইসিলো তো?? তর কথা জিগাইলো?” “সত্যি!!!” জরির চোখ জ্বলজ্বল করে ওঠে! হয়তো এতোদিনে তার কষ্ট ঘুচবে এই আশায়। “কোনহানে” “কোনহানে আবার? ভারতে” “ক্যামনে?” “তুই তো জানোস আমি মাঝেসাঝে ভারতে যাই, জিনিস-পাতি আনি, আমার আবার গরুর ব্যাবসাটাও দেখতে হয়। গত সপ্তায় গেলাম ভারতে, ওইখানে বাজারে এক লোকেরে দেইখা মনে হইলো ইনারে কই জানি দেখছি মনে হয়, এই বইলা কাছে যাইয়া জিজ্ঞেস করতেই.. আরে বদরুল ভাই না? বইলে আমারে বুকে জড়ায় ধরলো, আমি তো অবাক। যার কথা কইতাছি, এইটাই তর বাপ” “সত্যি” “সত্যি না তো, আমি বানায় কইতেছি নাকি” “তারপর” “তারপর আমার সেকি খাতির যত্ন, এমন যত্ন বিদেশে নিজের লোকরেই মাইনসে করে।” “আব্বা আমার কথা কিছু কইছে”, আনন্দমাখা জলে জরির চোখ চিকচিক করে ওঠে। “আরে কইছে মানে, সেই কথা বলতেই তো এইখানে আসলাম রে পাগলী” “কি কইসে?” “তোকে ঐখানে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিয়া যাইতে বলসে” জরি অবাক হয়ে প্রশ্ন করে, “আমি যাবো??” “নয়তো কি? তোর বাপে আসবে? তোর বাপের কাজ ফালাইয়া এক চুল নড়নের টাইম নাই ঐখানে” উত্তরে জরি নিশ্চুপ থাকে। “কি রে কথা কস না ক্যান, কি চিন্তা করোস” “কিন্তু আমি যাবো ক্যামনে, ঐদেশে যাইতে গেলে শুনসি পাসপোর্ট না কি জানি লাগে?” “আরে ধুর!! পাগলী কয় কি? কিচ্ছু লাগবে না, আরে তর বাপে গেছে না, আমি যাইনা, আরে.. আমারে দেখলে ঐ বিডিআর দেখছস?, খাড়াইয়া ছ্যালুট দেয়, সব হইতেছে গিয়া ট্যাকা, বুঝলি!” “আমি ট্যাকা পাবো কই?” “আমি আছি কি জন্যে, তর বাপেরে কথা দিসি। একবার যখন দায়িত্ব নিছি, তখন যাওয়ার সব দায় দায়িত্ব আমার।” “কবে যাইবেন?” “আমি যাবোনা, আমার অতি বিশ্বস্ত এক লোক আছে, সে নিয়ে যাবে! পরশু রাইত ১২টার পর রেডি থাকবি” “রাইতে?” “হ, রাইতে। আরে বিনা টাকায় চুরি কইরা যাবো, রাইতে নাতো কি দিনে নাকি? তবে বিডিআররে খালি চা পান বাবদ কিছু দিতে হবে। ঐটা আমি দিয়ে দিবোনে” গল্প বলার মাঝে আচমকাই কয়েকবার দরজার খটখট্ শব্দটায় সম্বিত ফেরে আবির ও জরির। তন্ময় হয়ে গল্প শুনছিলো আবির। জরির গল্প বলায় বাধা পড়ে। আবির খানিকটা চমকে ওঠে। “কে এলো দরজায় এতো রাতে” জরি বিরক্ত হয়ে উত্তর দেয়, “আমার এইখানে বদমাইশ মানুষ ছাড়া আর কে আসতে পারে” আবির মৃদু হেসে জিজ্ঞাসা করে,”আমাকেও কি আপনার বদমায়েশ মনে হয়” জরি মুচকি হেসে বলে,”এখন তক তো কোনো বদমাইশি দেখি নাই, হিহিহি দেখি কতক্ষন ভদ্রলোক থাকেন?” “আপনার হাসি টা না বেশ রহস্যময়” “তাই বুঝি?” “হুমমম!” এই কে রে দরজায়? এত রাইতে কে?, হাঁক ছাড়ে জরি। “আমি!”, দরকার ওপারে পুরুষের কন্ঠস্বর। “সকালের আগে দরজা খোলা যাবে না, নিষেধ আছে, রুমে লোক আছে” কিছুক্ষণ পরে আর কোনো শব্দ পাওয়া যায় না। হঠাৎই আবির বলে, “বেশ ডুবে গিয়েছিলাম আপনার জীবনের ভেতরে, আপনার কষ্টটা অনুভব করতে পারছি” “চা খাবেন!” “যদি বিষটিষ বা ঔষধ না মিশিয়ে দেন তবে চলতে পারে এক কাপ, অবশ্যই চিনি ছাড়া”
By kolpobazz
Sunday, March 31, 2019
Saturday, March 30, 2019
রাস্তার মধ্যে দাঁড়ায়া কমার্স কলেজের দুই প্রেমিক প্রেমিকা সিরিয়াস লেভেলের ঝগড়া করতেসে। আমি ধৈর্য ধরে স্ট্যাচুর মত দাঁড়িয়ে ঝগড়া দেখতেসি। ভাবছিলাম ব্রেকাপ হলেই একটা চান্স নিবো। কিন্ত একি এখন ও ব্রেকাপ হচ্ছে না। এর মধ্যে দেখলাম মেয়েটা কান্না করছে। আমি আবার নরম দিলের মানুষ। কান্না দেখতে পারিনা। মনে মনে রাগ হল। তাই হাতে থাকা ব্যট টা নিয়ে ছেলের মাথায় একটা বারি মেরে দিলাম। বারি খেয়ে রাস্তায় গরাগরি খাচ্ছে শুয়োরটা। মাথা ফেটে রক্ত বের হয়ে কালো পিচ লাল হয়ে গেছে। মা গো বাবা গো বলে চিল্লাচ্ছে। যাক গোল্লায় যাক হারামির পুত। তাতে আমার কি। আমি আবার মেয়েদের ছাড়া ছেলেদের কস্ট বুঝিনা। এদিক ফিরে মেয়েটার দিকে তাকালাম। মেয়েটা থ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। হয়ত শক খাইছে রক্ত দেইখা। খাক শক তাতে আমার কি। ভাল কাজ করলে আমার খারাপ লাগে না। রাস্তার পাশে একটা জটলা পরে গেছে। সবাই কইতাছে কি হল মিয়া। আমি কইলাম হালা আমার বউরে রেপ করতে আইছিল। দিসি মাথা ফাটাইয়া। আপ্নারা আমার বউরে দেহেন। আমি যাচ্ছি পুলিশ আননের লাইগা। হ দাদা ঠিক করছেন। হাত পা ভাইংা কেন দিলেন না। ভাবছি সালার জনগন কি আবুইল্লা। এরা এমন যে গু রে পিঠা কইলেও মাইন্না নিব, দিধা করব না। যাউকগা তাতে আমার কি। আমি ত জনগন না। প্রেমিকার প্রেমিকটা বেহুস পরে আছে, কেউ ধরছেও না। আরে ধুর যেখানে অভিজিতরে ধরে নাই সেখানে এই শালা কেডা। আমি এখন মিরপুর ১১ চলে আসছি। রাস্তার পাশে একটা বিরি কিনলাম। টাকা দিব এমন সময় সে রক্তমাখা ব্যটের দিকে তাকাইল কয়েকবার। তারপর,, সালার দোকানদার আর টাকা চাইল না। সালারা ও অদ্ভুত টাকা না থাকলে কোন বাল ও দিব না তয় ভয় পাইলে দেখা জায় পরনে লুনগি খুলে দিতেও টাইম নিবে না। সব শুওর কোথাকার। নাহ এখন এসব ভাব্লে চলবে না। একটা ভাল কাজ করে আসলাম তা ত সালারা বুঝবে না। না বুঝলে কি,, এমন ভাল কাজ সামনে আরও আসলে আমি বার বার করতেও পিছপা হব না। #সাইকো
By kolpobazz
সেবার এক গর্ভবতী মহিলাকে ধরেছিলাম । জননাঙ্গ দিয়ে লোহার রড ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম । পেট চিরে দেখলাম , জরায়ু ছিড়ে একটা বাচ্চার মাথা বের হয়ে এসেছে । মহিলার চেয়ে বাচ্চাটাকেই সুস্বাদু মনে হয়েছিল বেশি । প্রায় শখানেক খুন করেছি আমি । কিন্তু ধরা পড়ে গেলাম আজ । হাস্পাতাল থেকে একটা বাচ্চাকে চুরি করে নিয়ে এসেছিলাম । ওহ এখন ও খাওয়া সেশ করতে পারিনি। সিঘ্রই শেষ করতে হবে তা না হলে,,,,, অনেক আগে থেকেই লোকজন আমাকে সন্দেহ করা শুরু করেছিল । আরও সচেতন হওয়া উচিৎ ছিল আমার । ঐ তো ! বারান্দায় লোকদের পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে । সময় আর বেশী নেই । দরজা ভাঙার শব্দ শুনতে পাচ্ছি । #সাইকো ২০১৩
By kolpobazz
Subscribe to:
Posts (Atom)
Popular Posts
-
Kolpobazz https://ift.tt/2ld6xMf